Thursday, 31 August 2017

শুচি

 পৃথিবীতে  ঘনীভূত মন  সভ্যতায় ক্রমবর্ধমান বৈষম্য দৃশ্যমান।বরাবর সে স্পষ্টবক্তা ,এমনকি সাদা কে সাদা আর কালো কে কালো বলতে কোনো অশুভ শক্তি তাঁকে টলাতে পারেনা। অনেকটা সেই বাচ্চা ছেলেটার মতন। উলঙ্গ রাজা কে প্রশ্ন করেছিল রাজা তোমার কাপড় কোথায়। জ্ঞানের সুর সঞ্চালনা গানের সুরে বাঁধে ওর গবেষণা। রেওয়াজ রীতি ধীর লয় -মধ্য লয় -দ্রুত লয় এর মধ্যে ধৈর্য বাড়ে। কড়ি -কোমল স্বর গম তান এ নিঃস্বাস -প্রস্বাস বৃদ্ধি পায়। কথা শোনার ধী ঘটে। অন্য মানুষ কে মর্যাদা দিতে শেখায়।
মা -মাসি -পিসিদের ঘুমপাড়ানি গান বাচ্চা অবস্থায় স্মৃতি শক্তি বাড়ায়। খোকা ঘুমালো পাড়া জুড়ালো ,দোলদোল দুলুনি এই চলিত গান তার কথা অনায়াস বিচরণ। মনে রাখতে কোনও ব্রাহ্মী শাক খাওয়ার প্রয়োজন নেই।
গর্ভাবস্থায় মা লঘু সংগীত শোনে অথবা পছন্দ সই সংগীতে মনোনিবেশ করেন তাহলে নবজাতক -নবজাতিকা অন্ততঃ দুষ্ট প্রকৃতি হতে সময় নেবে।তাঁর  গবেষণার বিষয় এগুলো। জানে না  কতটা ফলপ্রসূ হবে। স্নায়ুরোগ -ভুলে যাওয়া ব্যামো এমনকী মনোনিবেশ এ ব্যাঘাত কেন ঘটে তার ই এই গবেষণা।গান যদি মন্ত্র মুগ্ধ হয় তবে এই পদ্ধতি চিকিৎসা জগতে আলোড়ন তুলতে পারে। ভিন্ন স্বাদের সঙ্গীত সে হতে পারে বিবিধ মাত্রিক। জন্মানোর পূর্বে মা এবং পরিবারের সদস্য যদি এই পদ্ধতি মেনে চলেন তার পরের প্রজন্ম কী সুস্থ সবল শিশুর আগমন আশা করতে পারে ? কাজ চলছে ,শুচির বিভিন্ন  পরিবেশ পরিস্থিতির সন্তানসম্ভবাদের নিয়ে। বস্তি বলতে যা বোঝায় সেখানকার পরিবার নিয়ে। তাঁর সাথে চলছে উপযুক্ত পথ্য। ওষুধ আর বিশ্রাম। বাকী সব কিছুর জন্য শ্রীনি ওর পাশে।

মানুষ কেন তাঁবেদার হয় ,স্বজন পোষণ করে ?এ ওর পিঠ চাপড়ায় ,বলে তুমি ভালো তাহলে আমিও ভালো। সততার দিন কেন ছোট আর অসততার রাত কেন এত দীর্ঘ। এতো মহামারী। সভ্যতার সংকট। আত্মিক সংকট ,মনের সংকট। যোগ্য প্রশংসার অভাব। অভাবটা অভাবেরই অভাব। দ্বন্দ্ব ,ঠান্ডা স্রোতের জলোছ্বাস।গবেষণা মাধ্যম সংগীত বাছার অন্যতম কারণ। কিছু যদি উপায় খুঁজে পাওয়া যায়.। 

কবে যে শ্রীনি ওর কাছের বন্ধু হয়েগিয়েছে বুঝে ওঠার আগেই শুচির পাশেপাশে।যে দিন  সেই আকাশ কালো মেঘে বৃষ্টি নামবে নামবে  ,বিপুল তরঙ্গ গানের তালে এলোচুলে শুচি দরজা খুলেছিলো সেই দিন থেকে  ভালোলাগা ভালোবাসায় পৌঁছেছিল।ভালো লেগেছিলো ওঁর মায়ের আপ্যায়ণ। ওঁর মায়ের হাতের তৈরী লেবু জল। প্রাণ জুড়িয়ে মন ছুঁয়েছিল।  সকলেই খুব হাসি খুশি। শ্রীনি সেই দিন কথার ছলে বলে সে একজন নার্ভের ডাক্তার। আর রবীন্দ্রসংগীত তাঁর ভীষণ প্রিয়।
নার্ভের রুগীর মনের মুক্তি ঘটানোর পদ্ধতি যদি সংগীত হয়। সংগীত থেরাপি যদি  মন চাঙ্গা করে কেমন হয়। শ্রীনি সংগীতের ওপর স্পেশাল কোর্স করছে। সূত্র সংগীতে দুজনের ভালোবাসা।
গবেষণায় অনেকটা সফল আজ শুচি। ওর পেপার পড়তে ডাক পড়েছে বিদেশের নামী ই উনিভার্সিটিতে। পৃথিবীর  অস্থির জীবন যাপনে এর কতটা প্রভাব ফেলবে সেটাই পরখ করবে জগৎ। নিজের দেশে এখন  অনেক কাজ চলেছে গবেষণার ওপর । শুচি শুনেছে ওর গবেষণা পত্র সবার কাছে উন্মুক্ত হবে। আগ্রহী সকলে কি আছে সেথায়
  মৌসুমী @.

Tuesday, 29 August 2017

শুচি 
গুরু শব্দের অর্থ , শুচির , অন্তরের অন্তঃস্থলে একটি সফল গাছের বীজ বপন করেছে। গাছটি আগামীতে সুগন্ধি  ফুল- সুমিষ্ট ফল   দেবে। আশ্রয় দেবে  ,ছায়া দেবে আর্ত আতুরজনে। সুদূর কোন নদীর তীরে গড়বে মানুষ সভ্যতা।" গু " এর অর্থ আঁধার ,"রু "এর অর্থ অন্ধকার মুক্তির জ্যোতি। ও  অন্ধকার এর নিকষ কালো আকাশে রূপালি আলোর ঝিলিক দেখতে চাই। সেই আঁচে শুচির তাপ নিয়েছে দু বার। প্রথম বাবা -মা এবং দ্বিতীয় বার তাঁর শিক্ষা -সঙ্গীত গুরু মাধ্যমে। 
ওর প্রতিবেশীরা এখনও বলেন শুচি ডাক্তার হলে সমাজ সেবা করতে পারত। মেয়ে কোথায় বিয়ে হবে ,সেখানে মুক্ত মনে  কাজ করতে পারবে কিনা কে জানে। ওর কিছুকরার ইচ্ছাই যেন পূর্ণতা পায়। প্রথম প্রথম ওর বাবামায়ের সে কথা মনে হলেও ,পরক্ষণে মেয়ের ওপর ভরসা রেখেছেন। শুচি গানে মনপ্রাণ ঢেলে দিয়েছে। সকাল সাঁঝ চলে রেওয়াজ। দশটি ঠাটের রাগরাগিণীর ভাঙাগড়া চলছে।খাদ -মধ্য -তার সপ্তক এ গলার অনায়াস চলন। যে দিন ওর রেওয়াজ হয়না ,প্রতিবেশীদের মনে মেঘ জমে। কখন শুচির মলহার এর তানে বৃষ্টি নামবে। ভোরের  ভৈরবী -আহির ভৈরব ঘুম ভাঙায়। কখনো কাফী ,আশাবরী -গান্ধারী  রেওয়াজে পাড়াময়। ছুটিছাটা থাকলে ধরে গুরু গম্ভীর টোরি রাগ। গলার বাঁকে বাঁকে উষ্ণতার ঘাম বিন্দু ঝরে। তানপুরা নিয়ে চোখ বন্ধকরে যেন মা স্বরসতী স্বর সঙ্গমে ব্যস্ত।
ঠাকুমা ,দিদা বলেন ও জন্মের আগেই সংগীত শিক্ষা নিয়েছে। শুচি বলে সেটা আবার কেমন কথা। মা যে বলে ওর যখন দশ বছর তখন থেকে ও  গান শেখে। স্পষ্ট বাদী ও এবং এটা ওটা বোঝালে হবেনা। যুক্তি চাই। ওনারা বোঝালেন শুচির মা খুব ভালো গান করে ,যখন শুচি ওঁর মায়ের গর্ভে তখন ওর মা নিয়মিত রেওয়াজ করতেন। সুতরাং শুচির গানের খড়ি জন্মের আগেই হয়েছে। বেজায় খুশী। স্নাতক স্তরে ও প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হয়েছে। 
পরবর্তী পর্যায়ে ও  রবীন্দ্রসংগীত নিয়ে গবেষণার সিদ্ধান্ত নেয়।  
ওর মহাবিদ্যালয়ে একটি রবীন্দ্রসংগীত বিভাগের ছাত্রের সাথে পরিচয় হয়। ছেলেটির অনেক কিছু ভালোমন্দ  ওর সাথে মিলেযায়। কলেজ চত্বরে দুজনে টুকটাক কথায় কথায় হঠাৎ শরতের মেঘের ক্ষণিক বৃষ্টি। এক ছুট্টে কলেজ দালানের এক কোণে। শরতের আকাশে সাদা মেঘ ভেসে ভেসে যাচ্ছে।শুচি গুনগুনিয়ে ওঠে "অমল ধবল পালে লেগেছে মন্দ মধুর হাওয়া --দেখিনাই  কভু দেখিনাই এমন তরণী বাওয়া " --এই গানটা শুচি ওর মায়ের কাছে শিখেছে। আরও একটা গান মায়ের কাছে শেখা ভীষণ প্রিয় "কাঁদালে তুমি মোরে ভালোবাসারই ঘায়ে "--.এবার  গাইছে গানের স্কেল মেনে। চলিতে পথেপথে বাজুক ব্যথা পায়ে। গাইতে গাইতে হাসছে খিখিলিয়ে। 
মায়ের কাছ থেকেই রবীন্দ্রনাথ কে দেখাশোনা এবং ভালোবাসা। ও নিজেই কথা বলে যাচ্ছে আজ। ওই ছেলেটি শুনে যাচ্ছে। ছেলেটির নাম শ্রীনিবাসন। শ্রীনি নামে সবাই চেনে। ও  ভীষণ ভালো কর্ণাটকি গায়। পশ্চিমবঙ্গে দুই পুরুষের বাস। অনর্গল বাংলা বলে এবং রবীন্দ্রসংগীত এর ভক্ত। গায়ও ভালো। 
এমনই একদিন বিকেল বেলায় আকাশে কালোমেঘ ঘনিয়েছে। শুচি সাউন্ড সিস্টেমে গান চালিয়ে শুনছে "বিপুল তরঙ্গ রে "..পড়েছে লং স্কার্ট একটা টপ।  আর খোলা চুল পিঠে এলিয়ে পড়েছে। মুখের ওপর দুই গালে গোছাগোছা চুল থুতনি ছুঁয়েছে। জানলা খোলা প্রবল বেগে হাওয়া দিচ্ছে। মায়ের হাতদুটো ধোরে গানের তালে তালে ঘুরছে। বোন ও তালে তাল দিচ্ছে। বাবা বসে বসে আনন্দের হাসি হাসছেন।   পিতার তৃপ্তি। তৃপ্ত পূর্ণতার আচ্ছাদনে। এমন সময় কলিংবেল এ বেজে উঠলো "এস  এস  আমার  ঘরে এস "..পিয়ানোর শব্দ। ..মৌসুমী @ 


Sunday, 27 August 2017

শুচি
শুচি এবছর মাধ্যমিকে পশ্চিমবঙ্গে প্রথম কুড়িতে স্থান পেয়েছে। বাড়ির সকলের ইচ্ছে ও বিজ্ঞান নিয়ে এগিয়ে চলুক। কিন্ত ওর পছন্দ কলা শাখা। ওর বাবা -মা দুজনেই শিক্ষা জগতের মানুষ। আদর্শবাদীও ,সুতরাং মেয়ের ইচ্ছে ডানায় নতুন রং চাপিয়ে না দিয়ে ওড়ার জন্য পাখনা দুটি কে আরও মজবুত কোরে দিলেন। শুচি ওঁর পছন্দেতেই রইল। শুচির একটি ছোট্ট বোনও আছে ,তাকে রশ্মি। সে খুব মিষ্টি ,দিদির অন্ধ সহযোগী।  বাড়িতে সংগীতের পরিবেশ। দুই বোন উচ্চাঙ্গ সংগীতের তালিম নেয়। শুচির গলায় রসগোল্লার রসে মধুর  ভৈরবী নৃত্য করে।
শুচি সংগীত নিয়ে উচ্চশিক্ষায় এগোচ্ছে। তবে কঠোর নিষেধ কোনও মাচা অনুষ্ঠানে গাওয়া চলবে না। ও বাধ্য মেয়ে। এছাড়া আর  কোনো বিধি -নিষেধ নেই। মা -বাবার ইচ্ছে মানুষ হোক ,মানুষের পাশে দাঁড়ায় যেন ওরা। মহাবিদ্যালয়ে ওঁর খুব প্রশংসা। ও হ্যাঁ ,শুচি রবীন্দ্রসংগীত নিয়ে পড়ছে ,তার সাথে চলছে উচ্চাঙ্গ সংগীতের তালিম। ছোট বেলা থেকে ও রূপের প্রশংসা শুনে এসেছে। প্রশংসা শুনতে কার না ভালো লাগে। ওর ও ভালো লাগে। কিন্তু ও বলে নিজেকে শুচি মাটি কে ভুলবিনা ,ওটাই তোর অস্তিত্ব।
মুখখানা পানপাতা বসানো ,চোখ -নাক সবকিছুই তাঁদের নিজের স্থানে সমৃদ্ধ। গায়ের রংখানা গম রঙে গমগম করে। চুল গুলো কবি চন্ডীদাসের কথায় "এলাইয়া বেণী ফুলেরও গাঁথনি "...লোকজনের না চলে নয়ন তারা।
ভাল -ভাল শুনে ক্লান্ত। লেখাপড়া -সংগীত -অঙ্কন -রূপের মাধুরী পূর্ণ ফুলের সাজি। পূজার অর্ঘ্য। এ যে প্রকৃতি দিয়েছে সাজায়ে তারে। ওঁর অভ্যেস প্রতিদিন শুতে যাবার আগে রবিঠাকুরের একটি কবিতা আর একটি গান গুনগুন করতে করতে ঘুমিয়ে পরে। আজও তাই সেই কবিতাটি ছোট্টমেয়ে র হারিয়ে গেছি আমি শেষ করে গাইছে "নিশিদিন মোর পরানে প্রিয়তম মম "..কোমল নিষাদ -গান্ধার -ধৈবত -ঋষভ নিখুঁত লাগানোর চেষ্টা চলছে। কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছে।
কঠিন তাল সমৃদ্ধ গান বড়ো প্রিয়। শিক্ষক মন্ডলী ওর প্রতি বেশি যত্নবান। শুনেশুনে রপ্ত করে। গানে তাল -ছন্দ -মাত্রা -সম -ফাঁক নিয়ে খেলতে ভালোবাসে। দাদরা তাল কে এক তালে আনলে গানের মাধুর্য কেমন হয়। কাহারবা তাল কে ত্রিতালে আনলে কেমন হয়। ধামারের চোদ্দ মাত্রা ভেঙে সাত মাত্রা  তেওরা আনলে কেমন লাগে। এই ভাবনা ঘুরঘুর করে। ...মৌসুমী@

Sunday, 11 June 2017

কথা র সানাই
সমাপন

"তোমার আনন্দ ওই এল দ্বারে,এল এল এল গো "----গানটি পাড়ায় সকলে শুনছে ।মাঝে মাঝে সানাই এর সুর । রবি ঠাকুর আর সানাই এর ছন্দ । আশাবরী -ভৈরবী -ভৈরব সুরের সাগরে অমৃত চেটে পুটে নিচ্ছে বিসমিল্লার পাগলা সানাই । লোকজন একটু ইয়ে -মানে কিছু বলার চেষ্টা করেছিল ।মুখরের মা পাত্তা দেয়নি ।তিনি  একাই মুখরকে এই পর্যন্ত এনেছেন । বাকি টা দেখাই যাক ।মুখরের  বাড়ি আজ সরগরম ।লোকজন এর আনাগোনা ।গত রাতে  ভিয়েন  বসেছিল আবাসনের ছাদে ।নানান মিষ্টি -বোঁদে সব হয়েছে ।সবাই ফেলে ছোড়ে খেতে পারবে ।যাকে বলে আন্না করে ।
আজ মুখর আর মিশুকের বিয়ের দিন ।দুই পরিবার মিলে ঠিক  করেছে ।বিয়ের পূর্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া হয়েছে ।ভবিষ্যৎ কেমন কাটবে ওঁদের ।সমস্ত পরীক্ষা করে দেখা যায় , ঠিক ঠাক সব কিছুই ।উত্তরাধিকার ?  সাধারন -অসাধারন দুই ই হতে পারে ।অভিভাবক যে টা বুঝবেন সেই মতো ব্যবস্থাপনা । চিকিৎসকের পরামর্শ ;এর জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ ওদের আছে ।সেটি প্রয়োজন ।কথা মতো কাজ ।
মুখরের মা ,মিশুকের বাবা মা সবাই  আজ ব্যস্ত । সকাল থেকে জল সইতে যাওয়া -গায়ে হলুদ -নান্দীমুখ ।এয়ো স্ত্রী রা খুব ব্যস্ত । ভাল ভাবে ওদের মতো করে বিবাহ সম্পন্ন ।বেশ ভালই চলছে ।দুইজন দুজনের খুব ভাল বন্ধু ।ওদের  মত ওরা থাকে । চিকিৎসকের টেস্টের নতুন পদ্ধতি তে নতুন খবর বাড়িতে ।নতুন সদস্যের আগমন হতে চলেছে ।"আনন্দ ধারা বহিছে ভুবনে"---- পরিবার খুশি খুশি ।মুখরের মা মাঝে কাঝে চিন্তা করেন । পূর্বের কথা ভেবে । এখন তাঁর ভগবান ভরসা । কালেকালে গভীর হল সম্পর্ক ।  আবার নতুন খবর এক নয় দুই অতিথি আসছে ।দ্বিগুণ আনন্দ দুই দিদির আর দাদার ।
কালে কালে জন্মিল তনয় -তনয়া ।এখন কেও ওদের নামকরণ করেন নি । ঘটনার  পুনরাগমন না হয় । মতামত -উভয় পরিবারের ।চোখ - কান পরীক্ষার পর ।মাস খানেক পর সব পরীক্ষাতেই উত্তীর্ণ ।
ওরা কথা আর সানাই ।নামে ডাকলেই তাকায় -হাসে ।চোখ চারটি স্বাভাবিক ।দুই দিদির দেখভাল ।মুখর - মিশুক কোলে নেয়।  আদর করে ।আনন্দে শব্দ করে।  খুশী হলে মুখর ওর মায়ের কোলে গিয়ে মাথা রাখে । মিশুক মা -বাবা -ভাই কে জড়িয়ে ধরে । ওদের পরিবার জানে এগুলো মিশুকের আনন্দ প্রকাশ ।এখন এরা যৌথ পরিবার । ঠাকুমা -দিদা আবার নতুন মা দুই জন । বাচ্চা -দের এক বছর পূর্ণ ।কথা আর সানাই এখন আধো আধো বলে ।মা -বাবা -দাদা বলে আর টলোমলো করে ।ধরলে দাঁড়ায় ।পা ফেলতে অতটা সড়গড় হয়নি ।
ওদের সাথে অনর্গল কথোপকথনে বাড়ি এখন কথার সানাই । সুরের অনুরণন  একজন কে বেশি সোহাগ করলে অন্য জনের খুনসুটি ।বাড়িতে খুশীর হাওয়া । ধুমধাম করে জন্ম দিন পালন হল ।সবাই আশীর্বাদ করলেন। সকলের  আমন্ত্রণ । চিকিৎসক ,মুখর -মিশুকের দিদিমনি রা সবাই এসে ছিলেন ।  এসেছিলেন মুখর মিশুক কুঠির কর্মচারীরা ।এ খন অপেক্ষায় আগামী পথ চলার । আগামী পথিকদের  হোক শুভ যাত্রা -------
                                                                                                                     মউসুমী 

Saturday, 10 June 2017

কথা র সানাই
পর্ব -৩
"অমন আড়াল দিয়ে লুকিয়ে গেলে চলবে না ।এবার হৃদয় -মাঝে লুকিয়ে বো -সো ,কেউ জানবে না ,কেউ বলবে না ।"--- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের  পূজা পর্যায় মুখরের মায়ের ভীষণ প্রিয় ।গান টি তিনি আবৃত্তি করছেন টেনে -টেনে  জোরে জোরে ।টুকটাক কাজ -কম্ম চলছে তার সাথে ।সে মায়ের মুখে আবৃত্তি আগেও দেখেছে ।আস্তে -আস্তে মায়ের মুখের কাছে কান পাতে। মায়ের কোলে মাথাদিয়ে শুয়ে পড়ে ।মা জানে মুখরের ও প্রিয় এটি ।প্রিয় রবীন্দ্রনাথের ছবিটি ।
মুখর দেখে ,  মা আর ও একটা টেনে টেনে কি বলে। সে বোঝে না ।একটা রেশ থাকে ।মা সেইটা করলে ; সে রবি ঠাকুরের ছবির কাছে যায় এবং গীতবিতানের ওপর হাত রাখে ।এটা মুখরের অভ্যাস ।মা এটি তৈরি করেছেন ।

"যদি এ আমার হৃদয় দুয়ার বন্ধ রহে গো কভু -দ্বার ভেঙ্গে তুমি এস মোর প্রানে---"মুখরের মায়ের প্রিয় গান ।বাড়িতে গানটি বাজে-- আর মা অঝোরে কাঁদে । মায়ের চোখের জল মুছিয়ে দেয় ।  আবেগ -অনুভুতি মুখরের ভীষণ ।অপছন্দ হলে তার প্রকাশ একটা বিকট শব্দ ।মা জানে সেটা ।

মুখরের শরীর খারাপ হলে মায়ের চিন্তা দ্বিগুণ ।একে তো মন খারাপ, তার ওপর  ডাক্তার কোনও পরীক্ষা করতে দিয়েছেন তো মুখর কে ধরে রাখার লোকজন খুঁজতে হয়। তখন সে শক্তিমান হয়ে ওঠে । বাকি সব মায়ের কথা শুনে থাকে।
মুখর যেখানে আঁকতে যায় সেখানে মুখরের বয়সী একটি মেয়েও আঁকে । সেও বিশেষ ।তার নাম মিশুক। তার মা তাকে নিয়ে আসে। যাতায়াতে মুখর -মিশুক- দুই মায়ের, খুব ভাব হয়েছে। ওরা যখন আঁকে দুই মা তখন ভাবনা চিন্তা করে ।বলাবলি করে তাঁদের অবর্তমানে এদের কি হবে---
কার হাতে দিয়ে  যাবে ।এইসব -এর মাঝে কবে যে তাঁদের বন্ধুত্ব হয়ে যায় টের পায়নি । মিশুকের বাবা  আছেন -মিষ্টিভাই ও আছে ।সে এখন মাধ্যমিক দেবে ।দিদি কে খুব ভাল বাসে ।দিদি কে; কেও কিছু বললে মন খারাপ করে ভাই ।দুই বাড়ির যাতায়াত বাড়ে । মুখর  মিষ্টি দুজন দুজনের বন্ধু হয়ে গিয়েছে।  ওরা নিজেদের আনন্দ বিশেষ শব্দের মাধ্যমে প্রকাশ করে। .....
 কয়েক বছর পর মুখরের মা দেখে মুখর ভালই আঁকছে। এই আঁকা নিয়ে যদি মুখর এগিয়ে যেতে পারলে মন্দ হয় না । দিদিমনি মুখরের মা কে বলেন ওকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে ।তিনিও সহযোগিতা করবেন। পরামর্শ দেন  মাকে -তাঁর নিকটজনের জন্য  গিফট হিসেবে  টেবিল ক্লথ -রুমাল - এর  ওপর মুখর কিছু আঁকা ঝোঁকা করুক । নিজে হাতে মুখর ,তাদের  দিক ।মুখরের জন্ম দিনে  । কথা মত কাজ ।সকলে খুব খুশী। উৎসাহ দিল প্রত্যেকে।রুমাল থেকে আজ  ও শাড়ি -পাঞ্জাবী -কুর্তি সবে তেই দিদিমনির সাহায্যে আল্প বিস্তর নক্সা কাটছে । মা ,মুখরের প্রথম ;যিনি মুখরের শিল্পের উদ্বোধক ।মিশুকের মা -বাবাও উৎসাহিত  ।শুভ কাজে বিলম্ব নয় ।
 মুখর- তার মা -দিদিমনি -মিশুক-মিশুকের পরিবার সকলের সহযোগিতায় একটি  ব্যবসা শুরু করেছে ।নাম দেওয়া হয়েছে "মুখরের মিশুক কুঠি "------
                                                    ---মউসুমী

Friday, 9 June 2017

কথা র সানাই
পর্ব -২
জন্মের পর থেকে সকলের নয়ন মণি মুখর ।সবাই মিলে নানান শব্দের খেলা খেলে ।কেও নাম ধরে ডাক দেয় তো আবার কেও পাখির ডাক ,কেও নানান জীব জন্তুর।ঝুমঝুমি বাজান হচ্ছে ।কিন্তু কোন প্রতিক্রিয়া আসছে না ।কয়েক দিন পর ডাক্তার দেখানো হলে  পরীক্ষা করে জানান ; মুখর কান এ শুনতে পায় না ।এটি তার জন্ম থেকেই ।
শুনেই মা -বাবা খানিকক্ষণ স্তব্ধ--- বাড়ি ফিরে সিদ্ধান্ত , মুখর কে আর পাঁচটা বাচ্চার মতই মানুষ করতে হবে । ভেঙ্গে পড়লে চলবে না ।দ্বিতীয় সান্তানের পথে হাঁটলেনও না ।  পাছে মুখর অবহেলার শিকার হয় । যদি দ্বিতীয় তে পুনরাবৃত্তি ঘটে ।
মুখর পাঁচ এ পা দিয়েছে ।চিকিৎসকের পরামর্শ সাধারন বাচ্চা দের সাথে মেলামেশা করাতে হবে।সেই চেষ্টা শুরু ---
কেও বলে এই ওষুধ -ওই ওষুধ ।ছুটোছুটি চলছে। শেষ সমাধান--মুখর বিশেষ সন্তান ।ওর শিক্ষা পদ্ধতি ও বিশেষ। 
বাবা -মা মুখর কে বিশেষ বিদ্যালয়ে ভর্তি করালেন ।সেখানে দেখেন অনেক এই ধরনের ছেলেমেয়ে । বন্ধু হয়ে উঠলেন  অভিভাবক রা ।  বাচ্চারাও নতুন জীবন খুঁজে পেল ।প্রত্যেকের চোখের চাওয়া ভিন্ন ভিন্ন ।কিন্তু উচ্ছ্বাস প্রকাশের বার্তা কম বেশী প্রায় এক ধরনের ।
মুখরের আভিভাবকের চোখেমুখে বিরক্তির প্রকাশ কমই হত। মনের কষ্ট মনেই পুষে রাখতেন । প্রকাশ্যে অপ্রকাশিত ।

বিদ্যালয়ের পড়াশুনো ছাড়াও মুখর সাঁতার এ যায় ।তার বিশেষ পদ্ধতির সাঁতার প্রশিক্ষণ । দিনে দিনে সাঁতারে দক্ষ হয়ে উঠতে লাগল ।তার সাথে একদিন দেখাগেল  মুখর বাড়ির দেওয়ালে পেন্সিল নিয়ে চিত্র বিচিত্র --কি যেন কাটছে । মনে হয় কি যেন বলতে চায় ও ।
ওদের শেখান এমন অঙ্কন শিক্ষিকার কাছে দেওয়া হল ।সেই খানেও সে বেশ জমিয়ে দিয়েছে ।এভাবেই মুখর কে নিয়ে ভালমন্দে দিন কাট ছে ।
সাত -আট বছর যখন  ---মুখরের জীবনের ছন্দ পতন । বাবা অফিস থেকে ফিরল কিন্তু তার সাথে খেলা ধূলা করল না ---আদর করলনা---সেদিন অনেক লোকজন এসেছিল বাড়িতে ।বাবা শুয়ে ছিল ।বাবা কে সবাই মালা পড়িয়ে নিয়ে গেল ।  মা ,কাঁদছিল  মুখর মায়ের চোখের জল ছুঁয়ে ;মায়ের কোলে শুয়ে পড়েছিল ।কখন যে ঘুমিয়ে গিয়েছিল টের পায়নি ।

প্রতিদিন মুখর বাবার আসার অপেক্ষায় থাকে ।মাঝে মাঝে বিশেষ শব্দ করে --দরজা খলে---- রাগের প্রকাশে শব্দটা উৎকট হয়ে ওঠে। ছুটে নিজের ঘরে চলে যায় ।মুখর-মা -বাবা ,তিনজনের ফটোর সামনে দাঁড়ায় ।
মনে কষ্ট মুখরের মা বোঝে  আচরণে ।দিনে দিনে সইল ---মুখর এখন যেন খুব যত্নবান মায়ের প্রতি ।মায়ের জামা -কাপড় গুছিয়ে রাখে ।বাড়ির অনেক কাজকম্ম করে ।মা স্কুল থেকে ফিরলে খুব আনন্দ ।ওর মত করে মা কে ওর স্কুলের কথা বন্ধুদের কথা বোঝায় ।রবিবারে মায়ের সাথে বাজার যায়। বেশ বোঝমান ,দুষ্টুমি একটু করে ।মা বলে অ্যায়ই ----।ওমনি খুশীর প্রকাশ ,মায়ের কোলে শুয়ে পড়া ।হুম; আজকাল রান্নাবান্নাও একটু আধটু করে । মায়ের সাথে  খুন্তি নাড়ে । মা উৎসাহ দেয় ...। স্বাবলম্বী হচ্ছে মুখর ।মা এইটাই চায়।-------
                                                                                                                         মউসুমী  



Thursday, 8 June 2017

কথা র সানাই
পর্ব -১
মুখর আজ ১৮ বছরে পা দিল । মায়ের ব্যস্ততা অন্য দিনের থেকে বেশি ।লোকজন আসবে তাঁদের আদর -নিমন্ত্রণ এর আয়োজন করতে ভোর ভোর স্নান সেরেছে--গৃহ দেবতার পূজা সারা হয়েছে ।মুখর আজ আইন মোতাবেক সাবালক। খুশি-ভাবনা মেশান অনুভূতি।মুখর ও আজ সকাল-সকাল নিজের প্রাত্যহিক কাজকম্ম করে নিয়েছে। এমনিতে খুব লক্ষ্মী ছেলে। ঘরদোর অগোছালো পছন্দ করেনা।আজ ও পরিপাটি । মা-ছেলে দুজনেই ব্যস্ত।  অনেক কাজ মা  বলেন বাবু এটা কর তো , -ওটা করত। ও  শুধুমাত্র মা এর কথাই  শুনে থাকে। 
জন্মদিনে কাছের মানুষদের ডেকেছিল ; যারা মুখরের পছন্দের।  সকলে আসাতে খুব আনন্দ। মাঝে মাঝে উত্তেজিত হয়ে বিশেষ শব্দের মাধ্যমে জানান   দিচ্ছে ।মা জানে এটা ওর ভাল লাগার প্রকাশ ।মা মুচকি হেসে মাথায় হাত টা আলতো ছুঁয়ে দিল ।রাত্রে যে যার বাড়ি ফিরেগেল।গুছিয়ে গাছিয়ে শুতে শুতে আজ  একটু দেরী। খানিকক্ষণ পর মা  এপাশ ওপাশ করছে দেখে ; মুখর তাঁর দুটি হাত মায়ের মুখের কাছে নিয়ে দেখে মা এর  চোখে জল আর ঠোঁট  জোড়া দাঁতের কামড়  দেওয়া ।দুই হাত দিয়ে মায়ের চোখের জল মুছিয়ে দিয়ে এক গেলাস জল দেয়। পরম তৃপ্তি আজ মায়ের ।
জন্মদিনের এটি ছিল মায়ের পরম পাওনা । সত্যি আজ মুখর সাবালক ।অনুভূতি-সহানুভূতি সবই বিশেষ ভাবে আছে ।
মুখর শান্ত। ঘুমিয়ে পড়েছে ও। সারারাত মাথার ওপর ঘুরন্ত পাখার দিকে চেয়ে ।আকাশ -পাতাল ভাবনায় মগ্ন ।কখন ভোরের পাখি কলকাকলি করে চলেছে  অন্যমনস্ক তে টের পায়নি । সকাল এ অনেক কাজ ।নিজের  স্কুল -ছেলের স্কুল  আছে । আজ রান্না করতে হবে না।এটাই রক্ষে ।সারারাত মুখর  কে নিয়ে মুখরের বাবা র সাথে  মনে মনে কথায় --কোথায়  পৌঁছে গিয়েছিল ।
আঠেরো বছর আগে যে দিন ডাক্তার বাবু জানালেন ঘরে নতুন সদস্যের আগমন । সেদিন থেকে মা -বাবা দুজনেই আনন্দে উদ্বেল । পরিকল্পনা এটা করব  -ওটা করব । কবে যে দশ মাস অতিক্রান্ত হয়ে গেল ।
যেদিন মুখর হল ডাক্তার বাবুরা বলেছিলেন ওজন কম । তাই ওকে পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে । তবে মা -বাচ্চা দুজনেই সুস্থ । যথা সময়ে মা -বাচ্চা বাড়ি এল ।খুব খুশী  সকলে ।দশদিন পরে দেখাগেল বাড়িতে রঙ্গিন খেলনা গুলোর দিকে চেয়ে আছে। বয়স্ক মা -কাকিমা - জেঠিমা বলল চোখ ঠিক আছে । এবার কান ঠিক আছে কিনা দেখতে হবে।---------