Sunday, 11 June 2017

কথা র সানাই
সমাপন

"তোমার আনন্দ ওই এল দ্বারে,এল এল এল গো "----গানটি পাড়ায় সকলে শুনছে ।মাঝে মাঝে সানাই এর সুর । রবি ঠাকুর আর সানাই এর ছন্দ । আশাবরী -ভৈরবী -ভৈরব সুরের সাগরে অমৃত চেটে পুটে নিচ্ছে বিসমিল্লার পাগলা সানাই । লোকজন একটু ইয়ে -মানে কিছু বলার চেষ্টা করেছিল ।মুখরের মা পাত্তা দেয়নি ।তিনি  একাই মুখরকে এই পর্যন্ত এনেছেন । বাকি টা দেখাই যাক ।মুখরের  বাড়ি আজ সরগরম ।লোকজন এর আনাগোনা ।গত রাতে  ভিয়েন  বসেছিল আবাসনের ছাদে ।নানান মিষ্টি -বোঁদে সব হয়েছে ।সবাই ফেলে ছোড়ে খেতে পারবে ।যাকে বলে আন্না করে ।
আজ মুখর আর মিশুকের বিয়ের দিন ।দুই পরিবার মিলে ঠিক  করেছে ।বিয়ের পূর্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া হয়েছে ।ভবিষ্যৎ কেমন কাটবে ওঁদের ।সমস্ত পরীক্ষা করে দেখা যায় , ঠিক ঠাক সব কিছুই ।উত্তরাধিকার ?  সাধারন -অসাধারন দুই ই হতে পারে ।অভিভাবক যে টা বুঝবেন সেই মতো ব্যবস্থাপনা । চিকিৎসকের পরামর্শ ;এর জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ ওদের আছে ।সেটি প্রয়োজন ।কথা মতো কাজ ।
মুখরের মা ,মিশুকের বাবা মা সবাই  আজ ব্যস্ত । সকাল থেকে জল সইতে যাওয়া -গায়ে হলুদ -নান্দীমুখ ।এয়ো স্ত্রী রা খুব ব্যস্ত । ভাল ভাবে ওদের মতো করে বিবাহ সম্পন্ন ।বেশ ভালই চলছে ।দুইজন দুজনের খুব ভাল বন্ধু ।ওদের  মত ওরা থাকে । চিকিৎসকের টেস্টের নতুন পদ্ধতি তে নতুন খবর বাড়িতে ।নতুন সদস্যের আগমন হতে চলেছে ।"আনন্দ ধারা বহিছে ভুবনে"---- পরিবার খুশি খুশি ।মুখরের মা মাঝে কাঝে চিন্তা করেন । পূর্বের কথা ভেবে । এখন তাঁর ভগবান ভরসা । কালেকালে গভীর হল সম্পর্ক ।  আবার নতুন খবর এক নয় দুই অতিথি আসছে ।দ্বিগুণ আনন্দ দুই দিদির আর দাদার ।
কালে কালে জন্মিল তনয় -তনয়া ।এখন কেও ওদের নামকরণ করেন নি । ঘটনার  পুনরাগমন না হয় । মতামত -উভয় পরিবারের ।চোখ - কান পরীক্ষার পর ।মাস খানেক পর সব পরীক্ষাতেই উত্তীর্ণ ।
ওরা কথা আর সানাই ।নামে ডাকলেই তাকায় -হাসে ।চোখ চারটি স্বাভাবিক ।দুই দিদির দেখভাল ।মুখর - মিশুক কোলে নেয়।  আদর করে ।আনন্দে শব্দ করে।  খুশী হলে মুখর ওর মায়ের কোলে গিয়ে মাথা রাখে । মিশুক মা -বাবা -ভাই কে জড়িয়ে ধরে । ওদের পরিবার জানে এগুলো মিশুকের আনন্দ প্রকাশ ।এখন এরা যৌথ পরিবার । ঠাকুমা -দিদা আবার নতুন মা দুই জন । বাচ্চা -দের এক বছর পূর্ণ ।কথা আর সানাই এখন আধো আধো বলে ।মা -বাবা -দাদা বলে আর টলোমলো করে ।ধরলে দাঁড়ায় ।পা ফেলতে অতটা সড়গড় হয়নি ।
ওদের সাথে অনর্গল কথোপকথনে বাড়ি এখন কথার সানাই । সুরের অনুরণন  একজন কে বেশি সোহাগ করলে অন্য জনের খুনসুটি ।বাড়িতে খুশীর হাওয়া । ধুমধাম করে জন্ম দিন পালন হল ।সবাই আশীর্বাদ করলেন। সকলের  আমন্ত্রণ । চিকিৎসক ,মুখর -মিশুকের দিদিমনি রা সবাই এসে ছিলেন ।  এসেছিলেন মুখর মিশুক কুঠির কর্মচারীরা ।এ খন অপেক্ষায় আগামী পথ চলার । আগামী পথিকদের  হোক শুভ যাত্রা -------
                                                                                                                     মউসুমী 

Saturday, 10 June 2017

কথা র সানাই
পর্ব -৩
"অমন আড়াল দিয়ে লুকিয়ে গেলে চলবে না ।এবার হৃদয় -মাঝে লুকিয়ে বো -সো ,কেউ জানবে না ,কেউ বলবে না ।"--- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের  পূজা পর্যায় মুখরের মায়ের ভীষণ প্রিয় ।গান টি তিনি আবৃত্তি করছেন টেনে -টেনে  জোরে জোরে ।টুকটাক কাজ -কম্ম চলছে তার সাথে ।সে মায়ের মুখে আবৃত্তি আগেও দেখেছে ।আস্তে -আস্তে মায়ের মুখের কাছে কান পাতে। মায়ের কোলে মাথাদিয়ে শুয়ে পড়ে ।মা জানে মুখরের ও প্রিয় এটি ।প্রিয় রবীন্দ্রনাথের ছবিটি ।
মুখর দেখে ,  মা আর ও একটা টেনে টেনে কি বলে। সে বোঝে না ।একটা রেশ থাকে ।মা সেইটা করলে ; সে রবি ঠাকুরের ছবির কাছে যায় এবং গীতবিতানের ওপর হাত রাখে ।এটা মুখরের অভ্যাস ।মা এটি তৈরি করেছেন ।

"যদি এ আমার হৃদয় দুয়ার বন্ধ রহে গো কভু -দ্বার ভেঙ্গে তুমি এস মোর প্রানে---"মুখরের মায়ের প্রিয় গান ।বাড়িতে গানটি বাজে-- আর মা অঝোরে কাঁদে । মায়ের চোখের জল মুছিয়ে দেয় ।  আবেগ -অনুভুতি মুখরের ভীষণ ।অপছন্দ হলে তার প্রকাশ একটা বিকট শব্দ ।মা জানে সেটা ।

মুখরের শরীর খারাপ হলে মায়ের চিন্তা দ্বিগুণ ।একে তো মন খারাপ, তার ওপর  ডাক্তার কোনও পরীক্ষা করতে দিয়েছেন তো মুখর কে ধরে রাখার লোকজন খুঁজতে হয়। তখন সে শক্তিমান হয়ে ওঠে । বাকি সব মায়ের কথা শুনে থাকে।
মুখর যেখানে আঁকতে যায় সেখানে মুখরের বয়সী একটি মেয়েও আঁকে । সেও বিশেষ ।তার নাম মিশুক। তার মা তাকে নিয়ে আসে। যাতায়াতে মুখর -মিশুক- দুই মায়ের, খুব ভাব হয়েছে। ওরা যখন আঁকে দুই মা তখন ভাবনা চিন্তা করে ।বলাবলি করে তাঁদের অবর্তমানে এদের কি হবে---
কার হাতে দিয়ে  যাবে ।এইসব -এর মাঝে কবে যে তাঁদের বন্ধুত্ব হয়ে যায় টের পায়নি । মিশুকের বাবা  আছেন -মিষ্টিভাই ও আছে ।সে এখন মাধ্যমিক দেবে ।দিদি কে খুব ভাল বাসে ।দিদি কে; কেও কিছু বললে মন খারাপ করে ভাই ।দুই বাড়ির যাতায়াত বাড়ে । মুখর  মিষ্টি দুজন দুজনের বন্ধু হয়ে গিয়েছে।  ওরা নিজেদের আনন্দ বিশেষ শব্দের মাধ্যমে প্রকাশ করে। .....
 কয়েক বছর পর মুখরের মা দেখে মুখর ভালই আঁকছে। এই আঁকা নিয়ে যদি মুখর এগিয়ে যেতে পারলে মন্দ হয় না । দিদিমনি মুখরের মা কে বলেন ওকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে ।তিনিও সহযোগিতা করবেন। পরামর্শ দেন  মাকে -তাঁর নিকটজনের জন্য  গিফট হিসেবে  টেবিল ক্লথ -রুমাল - এর  ওপর মুখর কিছু আঁকা ঝোঁকা করুক । নিজে হাতে মুখর ,তাদের  দিক ।মুখরের জন্ম দিনে  । কথা মত কাজ ।সকলে খুব খুশী। উৎসাহ দিল প্রত্যেকে।রুমাল থেকে আজ  ও শাড়ি -পাঞ্জাবী -কুর্তি সবে তেই দিদিমনির সাহায্যে আল্প বিস্তর নক্সা কাটছে । মা ,মুখরের প্রথম ;যিনি মুখরের শিল্পের উদ্বোধক ।মিশুকের মা -বাবাও উৎসাহিত  ।শুভ কাজে বিলম্ব নয় ।
 মুখর- তার মা -দিদিমনি -মিশুক-মিশুকের পরিবার সকলের সহযোগিতায় একটি  ব্যবসা শুরু করেছে ।নাম দেওয়া হয়েছে "মুখরের মিশুক কুঠি "------
                                                    ---মউসুমী

Friday, 9 June 2017

কথা র সানাই
পর্ব -২
জন্মের পর থেকে সকলের নয়ন মণি মুখর ।সবাই মিলে নানান শব্দের খেলা খেলে ।কেও নাম ধরে ডাক দেয় তো আবার কেও পাখির ডাক ,কেও নানান জীব জন্তুর।ঝুমঝুমি বাজান হচ্ছে ।কিন্তু কোন প্রতিক্রিয়া আসছে না ।কয়েক দিন পর ডাক্তার দেখানো হলে  পরীক্ষা করে জানান ; মুখর কান এ শুনতে পায় না ।এটি তার জন্ম থেকেই ।
শুনেই মা -বাবা খানিকক্ষণ স্তব্ধ--- বাড়ি ফিরে সিদ্ধান্ত , মুখর কে আর পাঁচটা বাচ্চার মতই মানুষ করতে হবে । ভেঙ্গে পড়লে চলবে না ।দ্বিতীয় সান্তানের পথে হাঁটলেনও না ।  পাছে মুখর অবহেলার শিকার হয় । যদি দ্বিতীয় তে পুনরাবৃত্তি ঘটে ।
মুখর পাঁচ এ পা দিয়েছে ।চিকিৎসকের পরামর্শ সাধারন বাচ্চা দের সাথে মেলামেশা করাতে হবে।সেই চেষ্টা শুরু ---
কেও বলে এই ওষুধ -ওই ওষুধ ।ছুটোছুটি চলছে। শেষ সমাধান--মুখর বিশেষ সন্তান ।ওর শিক্ষা পদ্ধতি ও বিশেষ। 
বাবা -মা মুখর কে বিশেষ বিদ্যালয়ে ভর্তি করালেন ।সেখানে দেখেন অনেক এই ধরনের ছেলেমেয়ে । বন্ধু হয়ে উঠলেন  অভিভাবক রা ।  বাচ্চারাও নতুন জীবন খুঁজে পেল ।প্রত্যেকের চোখের চাওয়া ভিন্ন ভিন্ন ।কিন্তু উচ্ছ্বাস প্রকাশের বার্তা কম বেশী প্রায় এক ধরনের ।
মুখরের আভিভাবকের চোখেমুখে বিরক্তির প্রকাশ কমই হত। মনের কষ্ট মনেই পুষে রাখতেন । প্রকাশ্যে অপ্রকাশিত ।

বিদ্যালয়ের পড়াশুনো ছাড়াও মুখর সাঁতার এ যায় ।তার বিশেষ পদ্ধতির সাঁতার প্রশিক্ষণ । দিনে দিনে সাঁতারে দক্ষ হয়ে উঠতে লাগল ।তার সাথে একদিন দেখাগেল  মুখর বাড়ির দেওয়ালে পেন্সিল নিয়ে চিত্র বিচিত্র --কি যেন কাটছে । মনে হয় কি যেন বলতে চায় ও ।
ওদের শেখান এমন অঙ্কন শিক্ষিকার কাছে দেওয়া হল ।সেই খানেও সে বেশ জমিয়ে দিয়েছে ।এভাবেই মুখর কে নিয়ে ভালমন্দে দিন কাট ছে ।
সাত -আট বছর যখন  ---মুখরের জীবনের ছন্দ পতন । বাবা অফিস থেকে ফিরল কিন্তু তার সাথে খেলা ধূলা করল না ---আদর করলনা---সেদিন অনেক লোকজন এসেছিল বাড়িতে ।বাবা শুয়ে ছিল ।বাবা কে সবাই মালা পড়িয়ে নিয়ে গেল ।  মা ,কাঁদছিল  মুখর মায়ের চোখের জল ছুঁয়ে ;মায়ের কোলে শুয়ে পড়েছিল ।কখন যে ঘুমিয়ে গিয়েছিল টের পায়নি ।

প্রতিদিন মুখর বাবার আসার অপেক্ষায় থাকে ।মাঝে মাঝে বিশেষ শব্দ করে --দরজা খলে---- রাগের প্রকাশে শব্দটা উৎকট হয়ে ওঠে। ছুটে নিজের ঘরে চলে যায় ।মুখর-মা -বাবা ,তিনজনের ফটোর সামনে দাঁড়ায় ।
মনে কষ্ট মুখরের মা বোঝে  আচরণে ।দিনে দিনে সইল ---মুখর এখন যেন খুব যত্নবান মায়ের প্রতি ।মায়ের জামা -কাপড় গুছিয়ে রাখে ।বাড়ির অনেক কাজকম্ম করে ।মা স্কুল থেকে ফিরলে খুব আনন্দ ।ওর মত করে মা কে ওর স্কুলের কথা বন্ধুদের কথা বোঝায় ।রবিবারে মায়ের সাথে বাজার যায়। বেশ বোঝমান ,দুষ্টুমি একটু করে ।মা বলে অ্যায়ই ----।ওমনি খুশীর প্রকাশ ,মায়ের কোলে শুয়ে পড়া ।হুম; আজকাল রান্নাবান্নাও একটু আধটু করে । মায়ের সাথে  খুন্তি নাড়ে । মা উৎসাহ দেয় ...। স্বাবলম্বী হচ্ছে মুখর ।মা এইটাই চায়।-------
                                                                                                                         মউসুমী  



Thursday, 8 June 2017

কথা র সানাই
পর্ব -১
মুখর আজ ১৮ বছরে পা দিল । মায়ের ব্যস্ততা অন্য দিনের থেকে বেশি ।লোকজন আসবে তাঁদের আদর -নিমন্ত্রণ এর আয়োজন করতে ভোর ভোর স্নান সেরেছে--গৃহ দেবতার পূজা সারা হয়েছে ।মুখর আজ আইন মোতাবেক সাবালক। খুশি-ভাবনা মেশান অনুভূতি।মুখর ও আজ সকাল-সকাল নিজের প্রাত্যহিক কাজকম্ম করে নিয়েছে। এমনিতে খুব লক্ষ্মী ছেলে। ঘরদোর অগোছালো পছন্দ করেনা।আজ ও পরিপাটি । মা-ছেলে দুজনেই ব্যস্ত।  অনেক কাজ মা  বলেন বাবু এটা কর তো , -ওটা করত। ও  শুধুমাত্র মা এর কথাই  শুনে থাকে। 
জন্মদিনে কাছের মানুষদের ডেকেছিল ; যারা মুখরের পছন্দের।  সকলে আসাতে খুব আনন্দ। মাঝে মাঝে উত্তেজিত হয়ে বিশেষ শব্দের মাধ্যমে জানান   দিচ্ছে ।মা জানে এটা ওর ভাল লাগার প্রকাশ ।মা মুচকি হেসে মাথায় হাত টা আলতো ছুঁয়ে দিল ।রাত্রে যে যার বাড়ি ফিরেগেল।গুছিয়ে গাছিয়ে শুতে শুতে আজ  একটু দেরী। খানিকক্ষণ পর মা  এপাশ ওপাশ করছে দেখে ; মুখর তাঁর দুটি হাত মায়ের মুখের কাছে নিয়ে দেখে মা এর  চোখে জল আর ঠোঁট  জোড়া দাঁতের কামড়  দেওয়া ।দুই হাত দিয়ে মায়ের চোখের জল মুছিয়ে দিয়ে এক গেলাস জল দেয়। পরম তৃপ্তি আজ মায়ের ।
জন্মদিনের এটি ছিল মায়ের পরম পাওনা । সত্যি আজ মুখর সাবালক ।অনুভূতি-সহানুভূতি সবই বিশেষ ভাবে আছে ।
মুখর শান্ত। ঘুমিয়ে পড়েছে ও। সারারাত মাথার ওপর ঘুরন্ত পাখার দিকে চেয়ে ।আকাশ -পাতাল ভাবনায় মগ্ন ।কখন ভোরের পাখি কলকাকলি করে চলেছে  অন্যমনস্ক তে টের পায়নি । সকাল এ অনেক কাজ ।নিজের  স্কুল -ছেলের স্কুল  আছে । আজ রান্না করতে হবে না।এটাই রক্ষে ।সারারাত মুখর  কে নিয়ে মুখরের বাবা র সাথে  মনে মনে কথায় --কোথায়  পৌঁছে গিয়েছিল ।
আঠেরো বছর আগে যে দিন ডাক্তার বাবু জানালেন ঘরে নতুন সদস্যের আগমন । সেদিন থেকে মা -বাবা দুজনেই আনন্দে উদ্বেল । পরিকল্পনা এটা করব  -ওটা করব । কবে যে দশ মাস অতিক্রান্ত হয়ে গেল ।
যেদিন মুখর হল ডাক্তার বাবুরা বলেছিলেন ওজন কম । তাই ওকে পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে । তবে মা -বাচ্চা দুজনেই সুস্থ । যথা সময়ে মা -বাচ্চা বাড়ি এল ।খুব খুশী  সকলে ।দশদিন পরে দেখাগেল বাড়িতে রঙ্গিন খেলনা গুলোর দিকে চেয়ে আছে। বয়স্ক মা -কাকিমা - জেঠিমা বলল চোখ ঠিক আছে । এবার কান ঠিক আছে কিনা দেখতে হবে।---------








Sunday, 28 May 2017

বড়মা 
সমাপ্তি 
ছোট নাতনির বিয়ে তে শারীরিক ক্ষমতা একদম পড়তির দিকে। কিন্তু মনের শক্তি বিপুল -বিশাল।এ বিয়ে বুঝি  , অন্য নাতি -নাতনির বিয়ে ব্যবস্থাপনা থেকে একটু আলাদা। ভিয়েন তো প্রতিটি অনুষ্ঠানে ই হয়ে থাকে। একটা মজার কথা বোলে রাখা ভাল । ছোট নাতনির বিয়েতে মিষ্টি সবাই পাচ্ছে ,কিন্তু তাঁর পুত্র কে কেও একটাও দিচ্ছে না ।বৃদ্ধ ছেলের জন্য লুকিয়ে কয়েকটা এনে বলেন এগুনো তাড়াতাড়ি খেয়ে নে ।ছেলেও তেমনি ।বলামাত্র উদরপূর্তি । মা - ছেলে চুপচাপ ।যেন কিছুই হইনি ।তাঁর ছেলের মিষ্টি খাওয়া নিষেধ ।তাঁর মধুমেহ হয়েছে ।কিন্তু মায়ের মন সবাই খাবে ,তাঁর ছেলে খাবে না ।এ হেন অন্যায় তিনি বরদাস্ত করবেন না । মা এবং ছেলের মধুর সম্পর্কের অটুট বন্ধন ।

 এবার একটু ইয়ে, মানে বাড়িতে কথা হচ্ছে আলো জ্বলবে। সেতো হ্যাজাকের আলো জ্বলে। এবার নাকি নাইট জ্বলবে। তিনি লাইট কে নাইট বলতেন। সমস্ত ল তাঁর ন। নাতিনাতনীর ছেলেমেয়েরা বলত বড়মা আবার বল নাইট। তিনি হাসতেন। হ্যাঁ তাঁর উত্তেজনা মাত্রা একটু হলেও বেশি , জীবনের পড়ন্ত বেলায়। নাইট মানে কী ?সে বড় নাতির বাসাতে দেখেছে।কিন্তু গাঁয়ের বসতবাড়ীতে সেকি সম্ভব?   বাড়ির বউদের রঙ্গীন কাপড় নিয়ে প্রবেশ দ্বার তৈরী হল। তার সাথে যুক্ত হল কলা গাছের থোড়ের মত দেখতে সাদা সাদা কিযেন একটা।গাঁয়ের সবাই এসে বলছে "ভাঁড়ল কেনে গো দোরে "----সন্ধ্যে নামল-- সেই থোড়ের মতো আলো জ্বলে উঠলো। আনন্দে করতালি বেজে উঠল। গাঁয়ে এই প্রথম এভাবে আলো জ্বলল তাও আবার লম্বা লম্বা সাদা সাদা। কলা গাছের থোড় কে ভাঁড়ল বলা হয় ।  বিবাহ সম্পন্ন হলো সুষ্ঠু ভাবে।

আস্তেআস্তে তাঁর স্বাস্থ্য ভাঙতে শুরুকরল। ডাক্তার বদ্যি দেখান হল। তাঁর পুত্রটিও কবিরাজ। তিনি দেখলেন এবং বুঝলেন তাঁর জীবনের রসদ ফুরিয়ে আসছে। কিন্তু তাঁর তো মা তাই তিনি উদ্বিগ্ন যে অন্য চিকিৎসক যদি জীবন নদী বয়ে চলার ওষুধ দিতে পারে। তাঁরাও একই কথা বললেন। তিনি সম্পূর্ণ ভাবে শয্যা নিলেন। উত্থান শক্তি রহিত। তাঁর যত্নআত্তি করতেন খুব মধ্যম নাতবৌ টি।মায়ের সাথে ছেলেরও স্বাস্থ্য ভাঙতে লাগল। তাঁর কারণ ছেলের ডাক এ রুগী দেখতে হত বেশী।এ হেন পরিশ্রম তাঁর স্বাস্থ্য ভগ্নের কারণ।  খুব তাঁর  নামডাক। তাঁর বাবার থেকেও বেশী। ছেলের সুখ্যাতি মনে হত মায়ের, যেন যে কর্মে তিনি ব্রতী ছিলেন তাঁর চূড়ান্ত ফলাফল পেয়েছেন।

দিনে দিনে ভালোর থেকে মন্দের বাতাস  তাঁর শরীরে বেশি বইছে। চৈত্রের এক দুপুরে এতদিনের বন্ধন থেকে মুক্তি লাভ করলেন তিনি। কিন্তু তাঁর পুত্র মায়ের বন্ধনে জড়িয়ে পড়লেন। মায়ের চলে যাওয়ার দিন তাঁর চোঁখের জলের বাঁধ ভেঙে ছিল। মাঝে মাঝে উচ্চারণ মা --মাগো। তাঁর চলে যাওয়ার দিন গ্রামের লোকজন বলাবলি করতে লাগল "সৎ মা কে বলবে "--"মা , ব্যাটা অন্ত প্রাণ ছিল -ব্যাটাও মা বলতে অজ্ঞান "--বাড়ির ছোট সদস্যরা নিজেদের কান কে বিশ্বাস করতে পারছিলনা। গ্রামের লোকজন কার কথা বলছে আজকের দিনে। কোনদিন এ ব্যাপারে বাড়িতে কোনো কথার উত্থাপন হয়নি। সেই কথাটি গ্রামের মানুষ ভেবে ছিল -ভাবনাটা তাদের। তাই আজও বাড়িতে তিনি বড়মা। 
তিনি চলে যাওয়ার দিন বাড়ির পোষ্য জীবজন্তু র  দস্যি পনা স্তব্ধ হয়েগিয়েছিল। কোনও শব্দ করেনি। বাড়াবাড়ি মনে হলেও এটাই বাস্তব -সত্যি ঘটনা। সেদিনের স্নানাদির সময় পোষা সারমেয়টি বাড়ির সকলের পুকুরে স্নানের পর সেও স্নান সেরে সকল কে সুরক্ষা দিয়ে পিছনপিছন বাড়িতে এসেছিলো। এক কোনে চুপটি করে বসে ছিল। তাঁর স্বামীর চলে যাওয়ার দিন যা হয়েছিল তাঁর পুনরাবৃত্তি ঘটে নি ।সকলেই চোখের জলে বিদায় জানিয়ে ছিল ।প্রসংশায় ভরিয়ে ছিল ।শেষ যাত্রায় তাঁর ছিল সকল কর্মের উচ্চারণ। একমত সবাই । আজও তিনি এই প্রজন্মের দাদুর মা ।
 কে বলে বড়মা আজ প্রভাতে নেই -কে বলে তাঁর উত্তরাধিকার নেই। সব আছে বড়মা -আছে আজও বেঁচে চারপ্রজন্মের সদস্যদের মধ্যে। তোমার কথা এখানেএখনও  বলাবলি হয় গো বড়মা -------- তুমি শুনছ ---------




Friday, 26 May 2017

বড়মা 
পর্ব -চার
নব বধু  আদর যত্নে আছে। দুই শাশুড়িমার শাসনেও। নিজের মত থাকে --বকুল ফুল তুলে এনে মালা গাঁথে। পূজার আসনে দেয়। বকুল ফুলের প্রেমে বকুল বিছানো গানটি গুনগুন করে। শাশুড়িমার কথা এবং উচ্চারণ তাঁর কেমন যেন  ঠেকে। মিষ্টি অথচ তাঁর মত নয়। " কে এয়েচে -নুচি -নেবু -নংকা -নোয়া -বৌমা এঁটো রয়েছে নাফিয়ে চল দেখি তো মা। "বেশ মজা লাগে তাঁর। মাঝে মাঝে মা, ছেলে কে লুকিয়ে নারকেল নাড়ু খেতে দিচ্ছে। এভাবেই দিনকাটতে কাটতে বাড়িতে নতুন সদস্যের আগমন। নতুন গোপাল আদরের ধন। মা -বাবা -ঠাকুমা -পিসিঠাকুমা সকলের ভালোবাসায় বাচ্চাটি বিছানায় শোয়ার ফুরসৎ পায়না।গোপালের গায়ের রং শ্যামউজ্জ্বল। সে নিয়ে প্রতিবেশীদের কথা উঠলে পিসিঠাকুমা বলতেন "রাং লয় -পিতল লয় -গোপাল আমাদের শুধুই সোনা ".--- কালো গাই এর দুধ গোপাল কে খাওয়ানো হত। কয়েক বছর পর তাঁর ভাইও এল। পরিবার বড় হতে লাগল।ভাইটির গায়ের রং ধবধবে সাদা। প্রতিবেশী রা ডাকে কালো সোনা আর ধলো সোনা। আরও চার ভাইবোন সংসারের সদস্য। জমজমাট কবরেজবাড়ি। 
ইতিমধ্যে পিসিঠাকুমার বার্দ্ধক্যজনিত কারণে দেহাবসান ঘটে।

 ঠাকুমা বড় নাতবৌ দেখার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। বড় নাতি আর কবরেজ হন নি। সরকারি চাকুরীজীবি ছেলে। হবু  নাতবৌ খোঁজা শুরু। সেই সময় ডাকযোগে চিঠি আসত -সে কবে এসে পৌঁছাবে তার দিন ক্ষণ  গুনে বলা যেত না। সে তাঁর মত আসবে। কিন্তু এদিকে যে সবুর সইছেনা। ছেলের বাবা -ছেলের মা কে ভালোবাসা মাখানো স্বরে বলেন "গোপালের মা আজও তো খবর হল না ".--অন্য সময় স্ত্রীর সাথে কথা হয়না। নানা লোকে নানা কথা বলবে। যে যুগে যে চল। 
বড়ছেলের বিয়ে হল ধুমধাম করে। বড় নাতবৌটি তাঁর মনের মতন। যেমনটি চেয়েছিলেন তেমনটি। চোখের আড়াল করতে চাইতেন না। নব বধুটিও ছোটছোট দেবর -ননদের মাঝে খুশিতেই থাকত।বড় নাতির ঘরে ফুটফুটে একটি কন্যা সন্তানের আগমন হল।  নাতিনাতনি দের ঠাকুমা বললেন "মেয়ে হয়েছে বলে নাতবৌ কে কেউ নুকিয়ে চুরিয়ে  কিচ্ছুটি বোলো না ---ও মেয়ে আমাদের ঘরের নক্ষী। "---বাড়িতে ছোট্ট মেয়েটি সকলের প্রিয়। মেয়েটি গ্রামের বাড়িতে গরমে কান্না কাটি করলে বড়মা বলতেন  "আহা ,নাইট -পাখায় জম্ম ; ওর কষ্ট নাগচে ,পাখা কর ।" আরও নাতি পুতির আনাগোনা চলতে লাগল। মেজো নাতি -বড় নাতনির বিয়ে হল ধুমধাম করে। ঠাকুমার তখন বয়স হয়েছে আস্তে আস্তে ক্ষমতা হস্তান্তর ঘটছে। সেই কাজে তাঁর ভীষণ সহযোগিতা। তিনি বলতেন "নেকা পড়া করিনি কোনদিন "---
কিন্তু তাঁর জ্ঞান এর ভান্ডার" তারিফ এ কাবিল" । সময়ের কাছে তিনি ভীষণ দায়বদ্ধ। হ্যাঁ কি যেন বলছিলাম --মেজ নাতির বিয়েতে তাঁর বড় নাতি  বলে ,তাঁর পাত্র ভাই কে,   বরযাত্রীদের রওনা হতে দেরী -দেরী বরেরও --পাত্রীর বাড়ি পৌঁছতে হবে।তখন তো আর চলভাষের চলন ছিলনা।  বড় নাতির কথার এবং সময়ের খেলাপ না পসন্দ ।  ওনারা চিন্তা করবেন তাই "আমি পাত্রীর বাড়ি চললাম --বরকেও যেতে হবেনা বরযাত্রীকেও না "----..ঠাকুমা বড় নাতি কে বলে ; বিয়েটা মেজো নাতির ; তাঁর নয়।  হাসি -মজা -ঠাট্টা --....সকলে এভাবেই আনন্দ করত -----ঠাকুমা তাঁর ছেলের নাতিনাতনিদেরও প্রিয় ছিলেন। তাঁর হাতে ভাঁড়ার ঘর এর কুলুপ।  বাচ্চারা বায়না জুড়ত বড়মা নাড়ু -মুড়কি দাও। কত যে নাড়ু -মুড়কি -নিজের হাতে তৈরি করতেন । চিঁড়ে -মুড়ি -সিঁড়ির নাড়ু । বিরক্ত হতেননা কোনও সময়। কষ্ট সহ্যের মাত্রাও সীমাহীন। অতিথি আপ্যায়ন করতেন ।হাতের তৈরি খাবার  দেওয়া হত । গ্রামে কিছুই পাওয়া  যেত না।
বাড়িতে গাই এর দুধ থেকে সুস্বাদু মিষ্টি তাঁর মত করতেন ।সবাই তাঁর হাতের বানানো খাবার সক্লের প্রিয় ।
 কখনো কখনো বাড়ির বলদজোড়ার তান্ডবে শিং এর গুঁতোতে রক্ত ঝরেছে যন্ত্রনা মুখেচোখে কিন্তু তিনি বিকার হীন ----তাঁর মনের যন্ত্রনা থাকলেও কাকপক্ষীতেও টের পায়নি।বয়সের ভারে শরীর ভেঙেছে।
 মোড়ল দের  ভ্রূকুটি অগ্রাহ্য করে ছেলে তাঁর শখ আহ্লাদ পূরণ করেন । কুলুঙ্গিতে তাঁর থাকত ছোট্টএকটি আরশি আর একটি কাঁকই মানে চিরুনী। ছেলে বড় হওয়ার পর মা কে চুল আঁচড়াতে বলেন। নাতবউ এর প্রসাধন নাতবউ ঠাকুমাকে মাখিয়ে দেয় । বক্তব্য ওই বিধি বিধান পালন করতে হবে না। যা সইবে তাই রইবে।-----
  তাঁর ছোটনাতনীর বিয়ের জন্য ব্যস্ততা। তিনি দেখেযেতে চান।সেই সময় সবে গ্রামে বিদ্যুৎ আসতে শুরু করেছে। -----   

Thursday, 25 May 2017

বড়মা 
পর্ব -তিন 
এখন গ্রামের লোকজন সদয় কবরেজ পরিবারের উপর।কিভাবে সন্তান মানুষ করতে হবে। সবার উপরে তাদের দায়িত্ব ওই পঞ্চদশী যার অকালবৈধব্য নেমে এল।  তাঁর জীবন নির্বাহের বিধান দানের ব্যস্ততা- আলোচনা  তুঙ্গে। সেই যুগে ওই বাচ্চা মেয়েটির জীবন অসহনীয় করে তুলেছিল। প্রথমেই তাঁর চুলগুচ্ছ কেটে ফেলাহয়েছিল অনেকটা কদম ফুলের মত তাঁর আকৃতি।  সাদা খান শাড়ি কোন রঙের প্রবেশাধিকার নেই। নির্জলা একাদশীর উপবাস।প্রতিদিন সেদ্ধ পক্ক একবেলা অন্যবেলা খৈ -মুড়ি।
কেন জানিনা অল্প দিনের মধ্যেই মা -ছেলে -পিসিমার মধ্যে সখ্যতা তৈরী হয়েছিল। সমাজের সব নিয়ম কানুন মেনেছিল তাঁর মা ওই ছেলের মুখচেয়ে। মা -ছেলে কখনো বন্ধু তো আবার মা তাঁর অভিভাবক। দুই মহিলা তখন থেকেই শক্ত মনের অধিকারী হলেন। ছেলেকে মানুষ করতে হবে। সম্পত্তি রক্ষা করতে হবে। গাঁয়ে বলাবলি করতে লাগল নানান কথা -শুরুহল সমালোচনা।দুই নারী এক কান খোলা রাখলেন অন্য কান বন্ধ রাখলেন। 
ছেলে কে নবদ্বীপ টোলে পাঠ নিতে পাঠানো হল। সে তাঁর নিজের মত বড় হতে লাগল। এনারা বাড়ির হাল ধরলেন। 
কয়েক বছর পরে হঠাৎ সদর দরজার দিক থেকে ডাক এল "মা -পিসিমা আমি এসেপড়েছি -কোথায় গেলে তোমরা "--পড়াশোনা শেষ করে বাড়ি ফিরলো। ছেলে তাঁর উত্তরাধিকার সূত্রে কবিরাজ হলেন। বাড়িতেই ওষুধ তৈরীর ব্যবস্থা করলেন। নানান লোকজন নানান কাজে ব্যস্ত। ওষুধ ঘর তৈরী হল। রুগীর আনাগোনা বাড়তে লাগল। দূরদূরান্ত থেকে রুগীর ঢল্। ছেলের হাতযশ খুব। চতুর্দিকে নাম -ডাক। মা -পিসিমা আনন্দে মশগুল। সেও তাঁর বাবার মত ডাক এ যায়। সেও নিদান দিতে পারে -দিতে পারে  পক্ষাঘাত গ্রস্থ রুগী কে স্বাবলম্বী হওয়ার মকরধ্বজ।
 নাড়ির স্পন্দনের ওঠা নামার ফলে নানাবিধ অসুখের ফরমান। ওষুধে আরোগ্য লাভ করায় রুগী তাঁর নবজীবনের আনন্দে । তাঁর জীবনের মূল মন্ত্র। সকলে বলে বাপের ছেলে। মায়ের কথা -পিসিমার কথা কেও বলেনা। বলেনা তো বলেনা তাতে ওঁনাদের কিচ্ছুটি যায় আসে না।

ছেলে বড় হয়েছে এবার বিবাহের তোড়জোড় চলছে। ছেলের তাঁর মা এর উপর সম্পূর্ণ ভরসা। যথা সময় কনের খোঁজ মিলল। তাঁকে চাক্ষুস করতে হবে। পাশের গাঁয়ে থাকে তাঁর বাল্য বন্ধু। তাঁর সাথেই মেয়ে দেখতে যাওয়া। কনে  সপ্তম মানে পড়ছে। সুশ্রী ও বটে।ধুতি -পাঞ্জাবী পড়ে  ছেলে- ছেলের বন্ধু কনে দেখতে গেলেন । নাম -ধাম জানলেন মেয়ের। মেয়েটি কে প্রশ্ন করলেন তাঁর" তর্কবাচস্পতি "এবং "কুজ্ঝ্বটিকা"--বানান জানা আছে কী ? মেয়েটির উত্তর- তাঁর দ্বিতীয় ভাগ পড়া আছে। অনায়াসে উত্তর । তথা বানান জানাল    মেয়েটি। গান জানে কিনা প্রশ্নেরও উত্তর এল গানের মাধ্যমে। "বকুল বিছানো পথে তুমি যে গিয়াছ চলিয়া "--সুর -বেসুরের মধ্যে মন্দ লাগল না। মেয়েটির সরলতা তাঁদের ভাল লেগেছিল। মা -পিসিমা কে ছেলের সম্মতি জানান হল। ধুমধাম করে বিবাহ সম্পন্ন হল। কবরেজ বাড়ি সরগরম। -----