Tuesday, 19 February 2019

ছেলেবেলা

ছেলেবেলা

#মৌসুমী রায়
সই, তুই হবি কী ছোট্ট বেলার সাথী?
চাই হোতে তোর ,একলা ঘাটের সঙ্গী।

তুই যদি হোস, ঐ আকাশের ফুসমন্তর ?
রাঙিয়ে দেব, দেখিস আমি ,তোর অন্তর।

আমেরকুশি ,কচিপাতার ভেঁপু বাজাস যদি!
আমি হবই হব,তোর আঁকাবাঁকা ছোটনদী।

ডুব সাঁতারে ,গামছা ছেঁকে ধরব চুনো পুঁটি!
সেই বেলাতে ফিরবে ,রূপকথার খুনসুটি।

ছেলেবেলার ,ভোরবেলায় ফুলটি তুলে এনে!
আবার তোর সাথে ,চলতে চায় পথ, না গুণে।

ভোরের রেওয়াজ ,ভৈরবী আর ভৈরবের কোমল স্বরে।
তোর লেখায় ,মন মেতেছে কলমখানির ভরে।

এখনো কী তোর,  আম কুড়ানোর,ইচ্ছে হয়?
আমিও ,সাথে যাব সেদিন ,জানাবি নিশ্চয়।

তোর লেখনীর ছোঁয়ায় ,শিলের হঠাৎ শব্দ পেলাম।
এক দৌড়ে ,বালিকা বেলা এক্ষুণি ঘুরে এলাম।

কালবোশেখে বৃষ্টি মাখানো মেঘে ,ঝড়ো হাওয়ায় বইব!
রামধনু কে ,সই ভেবে মনের কথা বলব।

সারাদিনে কতো ,ভাবনা ভাসাই জীবন তরীর মনে !
ক্ষমা করে দিস গো সই ,আবেগের ,বিলাপ  সম্বোধনে।।
         ...মৌসুমী রায়।।

কান্নাপাওয়ায়

কান্না পাওয়ায়

#মৌসুমী রায়
হারিয়ে গেল ,সেই কোথায় কখন!
চমকে চাওয়ায়,আপন মন।

সেই ,সেকালের ছোট্টবেলার,
তোর সাথে ওই, সময় খেলার।

সাত ভাই চম্পা, ভাবে এখন,
আনন্দের সেই আবেগ ঘন।

দেবার কিছু নেই রে আমার;
তুই যে এখন বড় সবার।

জন্মদিন টা ভাবতে ভাবতে!
ফিরিস কেবলই এই জগতে।

অনেক মাঝে খুঁজেই বেড়ায়:
সেই  , ছোট্ট ভাই ই চাই।

থাকিস কোথাও ,কোনো তারার মাঝে;
দেখব ,চিরবসন্তের সকালসাঁঝে।

দুই পাড়ের ওই কানাকানি;
হাওয়ায় দোলে, তরীর পাল খানি।

কথা দে ,আবার আসবি  ফিরে;
হারিয়ে, না যায় সকল , থাকিস ওরে।।।।

মঞ্জরী

মঞ্জরী

#মৌসুমী রায়
ও মঞ্জরী আমের মঞ্জরী ...

গাইতে গাইতে প্রায়ই ,মেয়েটি হেঁটে যায় এই গ্রামে।
শ্যামলা বরণ,দিঘল চোখ দুটির পানপাতা মুখে মিষ্টি লাগে ওঁকে।

প্রকৃতি ,প্রায় ই লণ্ঠন নিয়ে দিনের বেলায় , কি যেন খুঁজে ফেরে। অনেকে ভাবেন এ যেন ক্ষ্যাপা খুঁজে ফেরে পরশ পাথর।
সে যায় হোক ,তেমন বিশেষ আমল দেয় না কোনো কথায়! সে ,শুধু হাসে। হাসিতেও লোকজনের নাকি  পাগলী  মনে হয় ওকে। এই গ্রামে হঠাৎই প্রকৃতির আবির্ভাব।
একটা হিল্লে করতে হবে এই মেয়ের। ভাবনা শুরু।

অনাথ ভাবেই ওর জীবন যাপন।  গ্রামের মুরুব্বি রা ওর নাম করণ করেছে।  কারণ ও ,ম্লেচ্ছ  না হিন্দু সেকথা জানা নেই।  অতএব মেয়ে যখন,তখন ওর নাম হোক প্রকৃতি।  এখন ওর ,লণ্ঠন নিয়ে খুঁজে  ফেরা টাকে বিশেষ কিছু মনে হয় প্রতিবেশী দের।
এত দিন কেউ না কেউ ওকে, খাবার দাবার এবং বাসস্থান দিয়ে এসেছে। ভাবনা এখন বাস্তবের পথে।
এখন ওঁর জন্য একটা ঘর,কলঘর এবং গোসল ঘর করে দেওয়া হয়েছে সরকার এর সাহায্যে।
ওঁর আনন্দ বোঝা যায় না। তবে খুশিতে,  ও মঞ্জরী গান টি গায়। ওঁর চোখের উতল চাহনি তে প্রকাশ পায়। পূর্বের কথা জানতে চাইলেই ,দিনের বেলায় লণ্ঠন হাতে খোঁজ শুরু করে।

ইদানিং লক্ষ্য করছে গ্রামবাসীরা ,প্রকৃতি গ্রামের অবহেলিত ছেলে এবং মেয়েদের পড়াশোনা করাচ্ছে।  তাদের অল্প বিস্তর গান গাইতে এবং আঁকতে শেখাচ্ছে। আবার মাঝে মধ্যে নিজে কবিতা আবৃত্তি করছে।  হাতের মুদ্রায় নৃত্যে র চলন বোঝাচ্ছে।
কিন্তু, কোন সুস্থ বাড়ির বাচ্চাদের এ ব্যাপারে সাহায্য করে না ওঁ।  তাদের বলে ,তোমাদের তো অনেকে আছেন যাঁরা তোমাদের এগোতে সাহায্য করবেন।  এঁদের কেউ নেই যে ! দেখার।
আস্তে আস্তে  এভাবেই প্রকৃতির একটা ছোট খাটো স্কুল তৈরি হলো বাড়িতে। ওর চেহারাতে বনেদিয়ানা প্রকট। কিন্তু বোঝার অবকাশ দেয় না।

প্রায় দুই বছর অতিক্রান্ত । প্রকৃতি ঠিক করল এই বসন্তে ,এই ছেলে মেয়েদের নিয়ে একটা নাটক মঞ্চস্থ করবে।  ওঁর কথা এখন গুরুত্ব দিয়ে শোনেন গ্রামের মানুষেরা ।
কথা বলেন গ্রামের মুরুব্বি দের সাথে। মুরুব্বিরা এখন প্রকৃতি কে ,আর সে ভাবে দেখেন না।  তাঁর কথার যথেষ্ট মান্যতা দেন।  অনুষ্ঠানের জন্য নিয়মিত অভ্যেস চলছে। বিকেল টা বেশ কাটছে!

তাঁরা সকলে চাঁদা তুলে মঞ্চ বাঁধলেন,পোশাক পরিচ্ছদের ব্যবস্থা করলেন। মঞ্চস্থ হবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচনা চন্ডালিকা।  নাটক টাকে একটু নিজের মত করে মঞ্চস্থ করার চেষ্টা প্রকৃতির।  কারণ ,রবি ঠাকুর কে হুবহু উপস্থাপনা করা তাঁর কম্ম নয়।
প্রথমেই নিজের কণ্ঠে সুর ধরলেন ,আমি তোমার মাটির কন্যা জননী বসুন্ধরা... এরপরে অচ্ছুৎ কন্যার হাতে জল গ্রহণ ..  জল দাও ! এযেন কতদূর এর এক তৃষ্ণার্ত  পথিকের ডাক।
গা ,শিউরে ওঠে।। 
একের পর এক চমক চলতে থাকে। শেষে পরিবেশন, মাটির বুকের মাঝে বন্দি যে জল...মাটি পায় না,.
হাত তালিতে আকাশ বাতাস মুখরিত।  বলা বাহুল্য অনুষ্ঠানটি দিনের বেলায় হয়েছিল। গ্রামে তখন বিদ্যুতের ব্যবহার ছিল না। হ্যাজাক এর খরচ করতে সামর্থ্য ও ছিল না।  তার উপর এক অপ্রকৃতিস্থ নাটক পরিবেশন করবে। কি না কি সাপ, ব্যাঙ বেরুবে।   দর্শক দের মুখে মুখে ,আমি তোমার মাটির কন্যা.,.

যাই হোক ,সেই দিন অনুষ্ঠানে র শেষে,  এক ব্যক্তি র হঠাৎ আবির্ভাব। সে খুঁজতে খুঁজতে , এই গ্রামে উপস্থিত। প্রকৃতি , তাঁকে চিনতে পেরেছিল। কিন্তু অপরিচিত , এই ভান করে ছিল।

অনুষ্ঠান শেষে , মঞ্চের পিছনে গিয়ে নতজানু হয়ে, সে,  প্রকৃতি কে বলে,আমি তোমার জন্য কিছু করতে চাই, বলো তুমি কী চাও?

প্রকৃতি ,খানিক টা আবেগ মথিত হয়েও উত্তর দিয়েছিল,  সরে দাঁড়াও তো একটু;  
সূর্যের আলো টাকে আসতে দাও।  এই আলো, তোমার কেনা গোলাম নয়।  নই আমিও।

যেদিন  ,দুই মেয়ে জন্মদেওয়ার পরে , তাঁদের মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত করেছিলে ,সেদিন কিছু জানতে চাও নি,আমার কী প্রয়োজন!
ওঁরা আজ জীবিত থাকলে, এঁদের মতোই হোতো।

কিছু চায় না,কিছু করতেও হবে না।
আমার স্বাস প্রশ্বাস টা এই সূর্যের আলোতে নিতে চায়।
এখন থেকে এরাই আমার সব।  বঞ্চিত করে, তুমি বাঁচালে মোরে।  তফাৎ যাও,সূর্যের আলোটাকে আসতে দাও।  লণ্ঠন  নিয়ে, ঠগীদের খুঁজেছি অনেক।  এখন ,লণ্ঠন আর দরকার নেই, এখন সূর্যের আলোর হদিস পেয়েছি।।।।।

Saturday, 26 January 2019

সঞ্চারি

সঞ্চারি

#মৌসুমী রায়

মেঘের পরে মেঘ জমেছে ।
ওই আকাশের কানে কানে ;
গানে গানে কণ্ঠ ভরে :
গায়তে তোমায় :
রবি ঠাকুর ডাক দিয়েছে!!..

গাইবে যখন গানখানি,
সুরের সেতার টানে টানি:
রবি , তোমায় আপন মানি।
উতল হাওয়ায় বাজিয়ে বাঁশি;
পূর্ণিমা র ওই অমা নিশি ।

মনের কথা ,মনের খাতা!
বসন্তের ধরার তলে;
তোমার হৃদয় এমনই দোলে!
বেদন বেদম  গানের ভারে:
বাঁধবে তোমায় গানের তারে।।

স্থায়ী হোতে সঞ্চারিত ?
তুমিই অন্তরের ওই সঞ্চারি!
মেঘমল্লারে ওই গানখানি:
মেঘের পানে মেঘের গান!
তাঁরই নামে তোমায় জানি।।।

Wednesday, 9 January 2019

সফর

সফর

   #মৌসুমী রায়
হিমেল মাখা স্বপন মনে ...
রাখব ধরে সযতনে।
তোমার পরশ খানি ..
লাগবে ক্ষণে জানি।

হারিয়ে যাওয়া প্রভাত বেলা..
ফুল তুলে আনার ছোট্ট বেলা।
ফিরিয়ে যদি দাও প্রভাতী...
যেমন ছিল সঙ্গী সাথী।

আড়ি ,ভাবের  সেই নকল গড়...
আজ কেন গো  সব জড়সড়।
স্বপ্ন মাখা বালিকা বেলা...
সই এর লেখায় আবার খেলা।

আমি ও যদি হই প্রভাতী...
তুমিও দিও শুভ রাতি।
তোমার ঝর্ণা কলম ধারায়...
লেখার রসদ আবার জাগায়।।।

Monday, 7 January 2019

ইছামতী

ইছামতী
            # মৌসুমী রায়
"ও মাঝি ভাই ...শোন একবারটি , বল তো ,আমার বুকের উপর দিয়ে একটা সীমারেখা  টানা আছে বুঝি ; একি সত্যি?".…

মাঝি বলে,

"আছে বৈকি !… দুই দেশের পতাকা নিয়ে ,মাঝি মল্লার দল, দাঁড়িয়ে ঐ সীমানায়। তবে মাঝে মধ্যি আমার মনে হয় সীমানা ছাড়িয়ে যায়,দেখে আসি ওপার টা।"

ইছামতী বলে,

"জানো তো মাঝি ভাই ,আমি কিন্তু কিছুই বুঝতে পারিনা ! তোমাদের ওই ভাগাভাগি।
আপনবেগে চলি,কত কথা বলি ,ভাবি আমি আরও সুন্দরী হব...কত কত মানুষ আসবে; বলবে ইছামতী ,তোর সাথে বন্ধু হব..কত কবিতা,গান লিখব ,গাইব ।আবার কতশত মানুষের রুজির সাথ দেব। ঘুণা ক্ষরেও ভাগাভাগির কথা মনে আসে না।"…

মাঝি বলে,

" একেবারে মনের কথা বলছো গো। এই দেখো,কত মানুষ আসে ,নদীতে বেড়াতে ;  বাইতে বাইতে মনে হয়, একবার ওই সীমানায় যায় ,ওপরের মানুষ জনের সাথে কয়ে আসি। ওপারের মাঝি মল্লা আর আমরা তো একই মানুষ। আমাদের মন, কেউ বোঝে না!  তোমার মত । জানো ? ওপারে  যেতে গেলে ,নিজের পরিচয়  বন্ধক দিতে হয়। বুঝিনা বাপু,রকম সকম..."

ইছামতী বলে,

" তা বটে.. ওই মূর্খ গুলোই তো যত নষ্টের গোড়া। এই দেশ ছেড়ে যেতে গিয়েও : গেলি না যেন।
ভাগাভাগি কোরে, সর্বনাশ করে গেলি।   আরে বাবা,মোগল ,শক,হুন সবাই কে যেতে হোল  ; আর তোরা তো কোন ছাড় । দু দিনের যোগী; এসেছে ! চির কালীন যোগী র রাজ্যে ধ্যান করতে। ইছামতী দের মত ঊর্বশী দের কাছে , তোদের ধ্যান , ভঙ্গ হতে বাধ্য । আমরা মায়ের জাত। সোহাগ ও করি; প্রয়োজনে শাসন ও করি। এসব বুঝলে তো!  যত সব অর্বাচীন এর দল।

হ্যাঁ ,যে কথা বলছিলাম; মানুষ জন আমায় দেখে আর কি কি বলে,শোনাও তো দেখি । নিজের প্রশংসা শুনতে মন্দ লাগেনা গো।"…

মাঝি বলে,

" যদি ইচ্ছে করে ,আবার আসব ফিরে ফিরে।
নয়ন লোভন ,এ বেলাভূমি চরাচরে।।
তোমার মাঝে চির স্নেহের আবদারে।
মন সংযোগ অভাবে,চিন্তার আধিক্যে ,নদীর গভীরে।।
মধু চন্দ্রিমায়,অমাবস্যার রাতে।
তোমার জলের জোয়ার, ভাটার স্রোতে।।
আবারও, আরও না বলার মাঝে।
যখন যেমন থাকার মনের বাতির সাঁঝে।।
ইছামতী র স্নেহের  মাঝে ,নেই  বিভেদ ,বিপন্নর অভাব।
আবার যদি ইচ্ছে করে ,ভাসব আর দু দেশে রাখব সদ্ভাব।।"…

ইছামতী বলে,

"ধন্য হলাম। আমার ভালোবাসায় কোথাও গড়ে ওঠে নি, ধুধু চরাচর। মাঝি গো,আমার না বলা কথাও ওঁদের বলে দিও....আমার স্নেহের পরশ দিও.…আমার মনের বেদন খানি জানিও.…বলে দিও আমার ,টান থেকে তান;বিলাপ থেকে আলাপ…শাসন থেকে স্নেহ.…আজ আসি। তোমার দেরী করে দিলাম বন্ধু। আবার ইচ্ছে করলেই এস, এই  ইছামতী র মাঝে।তোমায় সোহাগের আবেশে আপনহারা য় মাতাব… বিদায় দাও মাঝি বন্ধু.…"..….....

Tuesday, 1 January 2019

একটা ছাদ

একটা ছাদ

জানিস,একটা ছাদ কিনছি,
মস্ত আকাশ দেখব হেসেখেলে।

আমিও  একটা একলা আকাশ কিনেছি, ভালোবাসব বলে।

তাহলে  শোন ,আমিওএকটা আবাসনের শেষ তলার বারান্দা ।

সবাই সবাই কে দেখে নিতে পারব এই" ধান্দা"।

তুই অনেক ছোট্ট, তোকে কিছু কিনতে হবে না।

আমরা তিন বুড়ো র, তুই
করবি দেখাশোনা।

নীলাকাশের নীচে  ,আমার ভুবনে আকালের সন্ধানে।

সন্ধ্যা বেলায়,
মেঘে ঢাকা তারা  আর বাঁচতে চাই শুনবি, কোমল ,নিষাদের গানে গানে।

ঘুমের আগে,
পথের পাঁচালী আর হীরক রাজার গপ্প শুনিস।

শুধু, তুই অন্য কোথাও যাসনা;
এখানেই থাকিস।

শোন ,আমায় বন্ধু বলিস ! প্রণাম করিস না।

মাণিক কে সিগারেট খেতে বারণ আর ওকে বোতল
এগিয়ে দিস না।
  
ছাদে, শুভ মহরৎ এ চিত্রাঙ্গদার চলবে খেলা।

বারান্দায় ,শুধু চার জনের; ছবি গল্পের মেলা।            

আমরা চার জন, একটা আকাশে ; অনেক রং লাগাব।

বলছি, ছাদ কিনিস না,
আমরা ই চারজন, একসাথে থাকব !!
           
                      ...মৌসুমী রায়।।