Saturday, 27 April 2019

বৃষ্টি ধোয়া চোখে

বৃষ্টি ধোয়া চোখে..
পলক হীনা মেঘে।
চোখের, এত  কোণ এবং দিকের উৎকৃষ্টতা মনকে সমৃদ্ধ করল।
এত ঝঞ্ঝা র মাঝে এক পলকে, একপশলা বৃষ্টি যেন এলো।।
চোখের ভাষা,পড়ে,দেখে,উচ্চারণে র শব্দ শুনে ,ছন্দ আবরণের পরী।
অমূল্য একটি উপহার ; একথা বলতে পারি।।
বন্ধু , শত্রু  চোখের লেখা পড়বে মেয়ে এবং ছেলে ।
মেঘলা দিনে চেয়ে রবে, হঠাৎ বৃষ্টি এলে।।
চোখের ভাষায় ভাসবে, অকারণ হোলে।
তোমার ভালোবাসায় ,তোমায় হঠাৎ মনে এলে।।
এতো লেখার মাঝেও ,এই লেখার চয়ণ খানি।
যত্নে , দেখব তোমার ভালোবাসার চোখের চাহনি।।
                        #   মৌসুমী।।

মাণিক আমার ওরে

মাণিক আমার ওরে

#মৌসুমী
চাঁদ টা কেন বাড়ে কমে সূয্যি কেন ওঠে,প্রশ্নের চোটে,
খোকারা আজ কয় না কথা মায়েরা কান্না চাপে ঠোঁটে।

মায়েদের সেই শিক্ষার বুলি,
আজকে ওই ওঁদের ভরেছে ঝুলি।

তাই তো তাঁরা বক বকানি কম করে,
অনেক দিন না দেখার পরে হঠাৎ দেখা
,মা বলে মাণিক আমার ওরে।

ভয় করো কেন মা গো,আমি তোমার ছেলে,
আমায়  যখন তখন ডেকো, তোমার হঠাৎ কান্না পেলে।।

সকাল সাঁঝে  মন কেমনের ছলে,
আমিও খানিক ঘুরে এলাম
ছেলের ছোট্ট বেলার কালে।

মনকেমনের রাতে

মন কেমনের রাতে

#মৌসুমী
মন কেমনে ,মনের আকাশ  দেখো মেঘলা,
সূর্য বুঝি ডুব দিয়েছে, তোমায় রেখে একেলা!

দেখা হলে দুষ্টু কে দিও  কষে খুব বকে!

জানতে চেও ,রোদকে  কেন তুলেছে সে  তাকে?

টুপটাপ শিশির শব্দে খোলে ঊষা তোরণ,
জেনেও বুঝে ও বুঝি তোমার নেই তো স্মরণ!

লুকালে ,জানো তো হারাবে সব আলো,

অচেনাকে চিনে নিতে মোছাও সকল কালো।

দেখ ঐ ,তারারা বসে মন খারাপের রাতে,
গোঁসা  পুষে রেখো না  আর নতুন প্রভাতে ।

তুমি রাগ করেছ, তাই তো চাঁদ হাসেনি আকাশে,

সত্যি বলছি তোমায় ছাড়া একলা , মলয় বাতাসে।

আকাশও আজ, একলা বসে কাঁদে নিশীথ রাতে,
  তুমি হেসে তোরণ ,যেন খুলে দিও নবীনপ্রাতে।

আজকে তুমি মেঘলা ,কালকে এসো ঝলমলিয়ে,

তোমার আশায় ভাসবে নব হরষে  ঝকমকিয়ে ।।।।

বাঙালিয়ানা

সেই...দিন ,সে বাঙালিয়ানা ছিল। আলগোছা জীবনযাপন,বাড়িতে অনাবশ্যক জলসা সাথে চা,টা  এবং ভালোবাসা মেশানো নির্ভেজাল আড্ডা। খোঁজখবর নিয়ে ভালোথাকার কথা চলত। হঠাৎ অতিথি এলে,ডাল ,ভাত আর ভালোবাসা পরিবেশন এবং হাতে এঁটো চচ্চড়ি না হওয়া পর্যন্ত আর খাওয়া শেষ হোতে না হতেই  ও বেলার রান্না ঘরে কী রান্না হবে তাঁর আলোচনা।

রাঙা পিসি,ফুল খুড়িমা, সেজো জেঠিমা, মেজ কাকিমা,ন কাকা ডাক ও প্রায় বিস্মৃত। সেই নতুন পিসি ,মাসির হাতের তৈরি লেবু ,চিনি জলের শরবত আর তার সাথে মাটির কুঁজোর ভিজে কাপড় জড়ানো জলের সোঁদা সোঁদা গন্ধ। গ্রীষ্মের উপরি পাওনা। এবাড়ির রান্না ওবাড়ির রান্না বাটিতে চালান আবার রান্নার ফাঁকে কার কী রান্না হোল তার খোঁজখবর। অমুক দিদার সুক্ত, ন মাসির ডাঁটা পোস্ত, বকুল ফুলের সইয়ের দিদার বাটি চচ্চড়ি র স্বাদ মুখে আজও লেগে থাকার গল্প।

ভালো দু একটা সিনেমার গল্প, ভাল গানের আলোচনা, রেডিওর বিকেল চারটে থেকে  ছায়াছবির গান,রেডিওর নাটক এ শুক্লা বন্দ্যোপাধ্যায় এর  কন্ঠ স্বর আহা।

সকাল.. সন্ধ্যে এবাড়ির হিয়া নয়ত ওবাড়ির শ্রেয়ণ দের উচ্চঃস্বরে পড়ার আওয়াজ,পাড়ায় স্নেহময় অথবা স্নেহময়ীদের ভালো রেজাল্ট এ খুশি হওয়া  ,সন্ধ্যে গড়িয়ে আড্ডা দিলে ভালোবাসা মেশানো ধমক, তারা নিজের না হলেও।

অন্য বাড়ির ছেলে মেয়ের বিয়ে হলে,অনাবশ্যক আলোচনা,এবারে মেয়ের বিয়ে বেশি নয়ত ছেলের বিয়ে বেশি।
আবার এবাড়ির শশা মুলো তো ওবাড়ির আম ,কাঁঠাল বিনামূল্যে যাতায়াত করত। গরমের সন্ধ্যের পর কুলফি মালায়ের ঝুমঝুম যন্ত্রের আওয়াজের জানান স দেওয়া উফফফফ।
বাড়িতে অতিথি আসুক আর নাই আসুক বিকেল বিকেল গা ধুয়ে এক খাবলা পাউডার নিজে এবং বাড়ির অন্যদের ও মাখিয়ে শান্তি পাওয়া।
কত আনন্দ মেশানো জীবন। টিভি সিরিয়ালের যন্ত্রণা টাও ছিল না তাই স্বরযন্ত্রের সময় নেই।
এই বাঙালিয়ানা ভাবতেই বেশ আনমনা হয়ে যাই। নাইবা রইল সাথে ভাবতে কী এসে যায়!!

Thursday, 28 March 2019

অর্ধেক আকাশ

অর্ধেক আকাশ
        #মৌসুমী রায়

দূরে দাঁড়িয়ে বিশাল আকারে অর্জুন।চারপাশে পরিবেষ্টিত কৃষ্ণ চূড়া ,রাধা চূড়া,পলাশ ,পারুল আর খানিক দূরে শিমুল।
কৃষ্ণচূড়া আর রাধাচূড়ার কথার মাঝে রাধাচূড়ার আনন্দে আত্মহারা র প্রতিফলন "সমুদ্রে শয্যা পেতেছি কানাই,এখন আমার আর শিশিরের ভয় নেই"।কেন গো রাধে এমন ভাবনা আমি তো তোমায় আমার আগে স্থান দিয়েছি।সকল  যে রাধাকৃষ্ণ বলে ,কৃষ্ণরাধা কেও বলেনা।
না,সে কথা নয়। শোন তবে সখা,একদিন অর্জুন হঠাৎ বলে ওঠে তোমরা জেনে রেখো,"তোমাদের মাঝে আমি অর্জুন,আমি আর্য পুত্র।আমি এক আকাশ,আমার দয়ায় তোমরা গলি ঘুপচিতে ঠাঁই পেয়েছ ,মনে রেখো আমি ধ্বনন্তরি।মহৌষধী,আমি রূপে গুণে শ্রেষ্ঠ।"। শিমুল,পলাশ,কেও প্রতিবাদ করেনি।আমি আর পারুল ও কিছুবলিনি ।কষ্টও পাইনি। নিজের অধিকার নিজেকেই বুঝতে হবে এটাই আমি আর পারুল প্রতিজ্ঞা করেছি।
বসন্তের এক আগুন ছোটা দিনে এই পথদিয়েই যাচ্ছিল এক সাঁওতালি মেয়ে।থমকে দাঁড়ায় অর্জুনের কাছে।বলে"হ্যাঁ গো অর্জুন,তুমার বড়াই বড় শুনছি পথে ঘাটে।তুমি বুলি আওড়াই ছ তুমি আর্য আর সকলি অনার্য।শুন তবে । দেখ এই মেঝেন  এর কৃষ্ণবরণ এর রূপ দেখে কবি পাগল পাড়া হয়ে বলেছে কৃষ্ণকলি । তোমাকেও বলেছে অর্জুন ।দুই জনই তার কাছে আমরা সমান সমান।দেখো দেখি  রাধাচূড়া কেমন মাটির ওপর শয্যা পেতে রাখে,সেখানটিতে তোমার রূপ আরও খুলে যায়।চলতে পথে পায়ে পায়ে নূপুর বাজে।রূপ দেখো রাধাচূড়া আর পারুলের ,কি যেন বলে গো এখুন কন্ট্রাস্ট না কি।তোমার রূপ দেখার আগেই রাধাচূড়া,পারুল পথ দেখিঙ আনে।মানতেই হবে।পলাশ ,শিমুল আগুন রঙা ,তোমার  আকাশের চতুর্দিক রঙীন করেছে।আর এখানে
এই মেঝেন না রইলে তোমায় দেখবে কে? ওই আকাশ পানে চেয়ে দেখো আধখানা তুমার আর আধখানা আমার।ভাগের চিহ্নত নাই। শুনতে শুনতে অর্জুন মগ্ন।ঘোরে আছে।কখন যে মেঝেন পলাইছে টের পাইনি সে।
ডাক পাড়ে ও মেঝেন যেয়ো না,আরও খানিক বোস।তোমার গুণের রূপে আমি মুগ্ধ।
অর্জুন ভাবে ,মিছেই অহংকারে নিজেকে আটকে রেখেছিলাম এতদিন। যখন আমার বাকল ছাড়ে কি কদাকার লাগে আমায় ,ভেবে দেখিনি।কিন্তু পলাশ,শিমুল,রাধাচূড়া,পারুল এদের রূপ তো একই থাকে।বসন্তে রাধাচূড়া আর পলাশ সাজুগুজু করে। কি সুন্দরী লাগে ওদের।ওদের ছাড়া আমার অহংকার অপূর্ণ।তোমরা নারী আছো বলেই আমরা পুরুষ রা এত সুন্দর।তোমারা না থাকলে আমাদের জন্ম অধরা থেকে যেত।শুধু বসন্তে তোমাদের সৌন্দর্য দেখতে সারা বছর যত্নে রাখতে হয়।তবেই তার পূর্ণতা পায়।এক বসন্তে উপভোগ করে বছর ভোর উপেক্ষা করলে ফি বসন্তে তোমার দেখা পাবনা সখী।
কেও আর্য,অনার্য নই।আমরা এক আকাশের দুইটি অঙ্গ।অলিন্দ ,নিলয়।আমরা দুটি চক্ষু,দুটি ফুসফুস।একা আমরা প্রতিরোধ্য।কিন্তু সঙ্গে চলা নারী ,পুরুষ অপ্রতিরোধ্য।
এই শিক্ষা আমায় দিল আজ নাম না জানা এক গাঁয়ের মেঝেন।না গো ,সে আমার পরম প্রেমের কৃষ্ণকলি।অনেক দিনের মনের মানুষ বসন্তের আকাশ কে রঙ্গিন করে গেল। বসন্ত আজ রঙিন হোল তোমার ছোঁয়ায় ।দেখ দেখি আমার জ্ঞান ,চোখ  ফোটাতেও তোমার ছোঁয়া।আমার জন্ম ও তোমার ভালোবাসায়।
ও যেন কে....?
ও? ও নারী....
অর্ধেক আকাশ... না! ভুল হোল একটু!
ও ! ও পুরো এক আকাশ ,সীমাহীন ।।

নারী

নারী

#মৌসুমী
যে মেয়েটা,গর্ভেই ভ্রূণ পরীক্ষায় ; জীবনে ইতিমধ্যে "ইতি " টেনেছিল! কিংবা জানবার পরেও মা এর গর্ভে আধ পেট খাবারেরও  আধপেট খেয়েছিল:  সংসার এভাবেই , হ্যাঁ এভাবেই অপুষ্টি জনিত রোগে ভুগিয়ে মারতে চেয়েছিল!

কিংবা একটু হেলা ছেদ্দা করে,   চোদ্দ বছর হোতে না হতেই অপয়া কে এক অকেজো অপদার্থ  ছেলের গলায় ঝুলিয়ে দিয়ে ছিল?
শ্বশুরবাড়ির গঞ্জনা লাঞ্ছনা,অত্যাচার নামক ; নিত্য দিনের খাদ্য গ্রহণ করতে করতেই নাবালিকা গর্ভবতী হয়ে গেল ! পরপর কন্যা হওয়ার অপরাধে ,পুত্রের আশায় ,জরায়ু টাকে ঝাঁঝরা করে ,  নিংড়ে নিয়ে ; স্বামী পরিত্যক্ত হয়ে  , নিজেই বাঁচার চেষ্টা করল, মেয়েদেরও মানুষ হোতে শেখাল ?
ইতি টানতে চাওয়া!!!
কোনো মেয়ে আজ লেখাপড়া শিখে,আবার কোনজন খেলাধূলা তে,এমনকি সুগৃহিনীও  হলো!

গর্বিত হয়ে বলে, তাঁরা কন্যা রত্ন! সেই বাতিল রেখা  টানা মেয়েরাই ,বাধায় বাঁধা না থেকে : 
নিজের গর্ভ কে সম্মান দেখিয়ে , বর্তমানে
" শ্রীচরনেষু॥
শ্রীচরনেষু র অর্থ, পুরুষের তুলনায় কয়েকগুণ বেশী ধৈর্য্য ও সহ্যের  সমাহার !! বিস্ময়ে তাকাই চারিধার??
সুতরাং,
এক আকাশ আশা +ধৈর্য্য  +সহ্য +আত্মসম্মান = শ্রীচরনেষু মা.....

বৃষ্টি ধোয়া

বৃষ্টি ধোয়া চোখে..
পলক হীনা মেঘে।

চোখের, এত  কোণ এবং দিকের উৎকৃষ্টতা মনকে সমৃদ্ধ করল।
এত ঝঞ্ঝা র মাঝে এক পলকে, একপশলা বৃষ্টি যেন এলো।।

চোখের ভাষা,পড়ে,দেখে,উচ্চারণে র শব্দ শুনে ,ছন্দ আবরণের পরী।
অমূল্য একটি উপহার ; একথা বলতে পারি।।

বন্ধু , শত্রু  চোখের লেখা পড়বে মেয়ে এবং ছেলে ।
মেঘলা দিনে চেয়ে রবে, হঠাৎ বৃষ্টি এলে।।

চোখের ভাষায় ভাসবে, অকারণ হোলে।
তোমার ভালোবাসায় ,তোমায় হঠাৎ মনে এলে।।

এতো লেখার মাঝেও ,এই লেখার চয়ণ খানি।
যত্নে , দেখব তোমার ভালোবাসার চোখের চাহনি।।
                        #   মৌসুমী।।